ED Arrest

পদ্মভূষণপ্রাপ্ত লুধিয়ানার শিল্পপতিকে ডিজিটাল গ্রেফতারির মাধ্যমে ৭ কোটি টাকা প্রতারণা! কলকাতা থেকে অভিযুক্ত সোহেল আখতারকে গ্রেফতার ইডির

ইডির দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা অর্থ প্রথমে রিগ্লো ভেঞ্চার্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং ফ্রোজ়েনম্যান ওয়্যারহাউসিং অ্যান্ড লজিস্টিকসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল। গুয়াহাটির বাসিন্দা রুমি কলিতা এবং কানপুরের বানো অর্পিত রাঠোর এই ফ্রোজ়েনম্যান ওয়্যারহাউসিং অ্যান্ড লজিস্টিকসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে ইডি দাবি করেছে।

পদ্মভূষণপ্রাপ্ত লুধিয়ানার শিল্পপতি এস পি ওসওয়াল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০২৬ ০২:০৮

পদ্মভূষণপ্রাপ্ত লুধিয়ানার শিল্পপতি এস পি ওসওয়ালকে ডিজিটাল গ্রেফতারির মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনায় কলকাতা থেকে সোহেল আখতার ওরফে রাজুকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইডি জানিয়েছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইন, ২০০২-এর অধীনে সোহেল আখতারকে গ্রেফতার করা হয়। কলকাতার ইডির বিশেষ আদালতে ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করার পর সোহেলকে জলন্ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। জলন্ধরের বিশেষ ইডির আদালত অভিযুক্তকে আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই প্রতারণায় সোহেলের কী ভূমিকা এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র খতিয়ে দেখবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

লুধিয়ানার বর্ধমান গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান এস পি ওসওয়ালকে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে ডিজিটাল গ্রেফতারির ফাঁদে ফেলে প্রতারকেরা। অভিযোগ, সিবিআই আধিকারিকের পরিচয় দিয়ে তাঁকে ভয় দেখিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা আদায় করা হয়। এই ঘটনায় লুধিয়ানার সাইবার ক্রাইম থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে ইসিআইআর দায়ের করে করে ইডি তদন্ত শুরু। একই চক্রের বিরুদ্ধে ডিজিটাল গ্রেফতারির মাধ্যমে সাইবার প্রতারণা সংক্রান্ত আরও ন’টি এফআইআরও তদন্তের আওতায় আনা হয়।

ইডির দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা অর্থ প্রথমে রিগ্লো ভেঞ্চার্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং ফ্রোজ়েনম্যান ওয়্যারহাউসিং অ্যান্ড লজিস্টিকসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল। গুয়াহাটির বাসিন্দা রুমি কলিতা এবং কানপুরের বানো অর্পিত রাঠোর এই ফ্রোজ়েনম্যান ওয়্যারহাউসিং অ্যান্ড লজিস্টিকসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে ইডি দাবি করেছে।

অভিযুক্তরা দ্রুত প্রতারণার টাকা একাধিক অ্যাকাউন্টে সরানোর জন্য ‘AMMFORWARD’ নামে একটি অ‍্যানড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করত। ইডির তদন্তে জানা গিয়েছে, অর্পিত রাঠোর কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের বাসিন্দাদের কাছে বিভিন্ন ভুয়ো অ্যাকাউন্টের তথ্য সরবরাহ করতেন। এর বিনিময়ে তাঁর বিন্যান্সের অ্যাকাউন্টে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে কমিশন জমা পড়ত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে রুমি কলিতা এবং অর্পিত রাঠোরকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই মূলচক্রী সোহেলের খোঁজ মেলে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রিগ্লো ভেঞ্চার্সের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতেন সোহেল আখতার। তিনি এই চক্রের অন্যতম প্রধান হ্যান্ডলার হিসেবে কাজ করতেন। বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়োগ করা এবং ব্যক্তি ও সংস্থার নথিপত্র ব্যবহার করে নামে ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ব্যবস্থা করাই ছিল তাঁর মূল কাজ।

ইডির তদন্তে আরও উঠে এসেছে, একাধিক মোবাইল ফোনে আগে থেকেই অ‍্যানড্রয়েড ফাইল ইনস্টল করা থাকত। ওই ফোনগুলিতে রিগ্লো ভেঞ্চার্স-সহ বিভিন্ন সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত সিম কার্ড ব্যবহার করা হত। পরে অ্যানড্রয়েড ফাইলগুলি সক্রিয় করে নেপালে থাকা সহযোগীদের ওই ফোনগুলিতে আসা ওটিপি এবং অন্যান্য এসএমএসের নাগাল দেওয়া হত। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে দ্রুত প্রতারণার টাকা সরানো সম্ভব হয়েছিল বলে দাবি ইডির।

তদন্তে এ-ও জানা গিয়েছে, প্রতারণার টাকা বিভিন্ন ভুয়ো অ্যাকাউন্টে ২ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে স্থানান্তরিত করা হত। এরপর দ্রুত সেই টাকা নগদে তুলে নেওয়া হতো। আর্থিক ভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের ঋণ পাইয়ে দেওয়া অথবা চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের নামে এই ভুয়ো অ্যাকাউন্টগুলিকে খোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে ইডি।

এ ছাড়াও, বিদেশে থাকা সহযোগীদের সঙ্গে ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য আদানপ্রদানের জন্য এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড ব্যক্তিগত মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলেও ইডি দাবি করেছে।

এই মামলায় এর আগে প্রায় ১ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকার সম্পত্তি অস্থায়ী ভাবে বাজেয়াপ্ত করেছিল ইডি। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রুমি কলিতা, অর্পিত রাঠোর, আনন্দ চৌধুরী, অতনু চৌধুরী এবং ফ্রোজ়েনম্যান ওয়্যারহাউসিং অ্যান্ড লজিস্টিকসের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ বার সোহেল আখতারের গ্রেফতারির পর এই প্রতারণা চক্রের আর্থিক লেনদেন, বিদেশি যোগ এবং ডিজিটাল অ্যারেস্টের ঘটনায় তাঁর কথিত ভূমিকা নিয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।


Share