Russia-Ukraine War

ফের উত্তপ্ত কৃষ্ণসাগর! পর পর দু’দিন দুই বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলা, আগুন ট্যাঙ্কারে, উদ্ধার ২৩ ভারতীয় নাবিক

রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেনের ড্রোন হামলাতেই ওই ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে যায়। জাহাজটিতে থাকা ২৩ জন নাবিকই ভারতীয়। তাঁদের সকলকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

ফের উত্তপ্ত কৃষ্ণসাগর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৫৭

ফের উত্তপ্ত কৃষ্ণসাগর। পর পর দু’দিন এই জলপথে যাতায়াতকারী দুই বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা সামনে এল। সোমবার কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের একটি পণ্যবাহী জাহাজে রুশ হামলার অভিযোগ ওঠে। পরের দিনই একই জলপথে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা হয়। রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেনের ড্রোন হামলাতেই ওই ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে যায়। জাহাজটিতে থাকা ২৩ জন নাবিকই ভারতীয়। তাঁদের সকলকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

রাশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, সোচির কাছে কৃষ্ণসাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় লাইবেরিয়ার ওই ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা হয়। জাহাজে তেল থাকায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা। শেষ পর্যন্ত জাহাজে থাকা ২৩ জন ভারতীয় নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

ঘটনার পর সোচি শহরের মেয়র উপকূলবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতের উপর বিধিনিষেধ জারি করেন। সমাজমাধ্যমে ইতিমধ্যেই হামলার একাধিক ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে উপকূলের কাছে একটি জাহাজকে দাউদাউ করে জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে ঘন কালো ধোঁয়া। তবে ভিডিয়োগুলির সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এর এক দিন আগেই, সোমবার, রোমানিয়ার জলসীমার বাইরে কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় অন্তত দু’জন নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক জন ভারতীয় নাবিকও রয়েছেন। জাহাজে থাকা আরও দু’জন ভারতীয় নাবিক অক্ষত রয়েছেন বলে জানিয়েছে রোমানিয়ায় ভারতীয় দূতাবাস। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত মনোজ মহাপাত্র তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তিন জনেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সমস্ত সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। অসামরিক জাহাজকে সংঘাতের নিশানা করা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর বক্তব্য, কিভ এবং মস্কোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নয়াদিল্লি। জয়শঙ্কর বলেন, কৃষ্ণসাগর থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত চলাচলকারী অসামরিক জাহাজে হামলা মেনে নেওয়া যায় না। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমেই সম্ভব বলেও বার্তা দিয়েছে ভারত। তবে কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার অভিযোগ নিয়ে এখনও নয়াদিল্লির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কৃষ্ণসাগর ঘিরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। দুই পক্ষের সংঘাতের জেরে এই অঞ্চলে একাধিক বার বাণিজ্যিক ও জ্বালানি পরিবহণকারী জাহাজ হামলার নিশানা হয়েছে। রাশিয়ার তেল পরিকাঠামোয় হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইউক্রেনের যুক্তি, মস্কোর হামলা প্রতিহত করতেই এই পদক্ষেপ। অন্য দিকে, কিভের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও পরিকাঠামো লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক সময়ে হামলা বাড়িয়েছে মস্কোও। পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইউক্রেন। ফলে ফের সংঘাতের আঁচ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে কৃষ্ণসাগরজুড়ে।


Share