Kolkata Municipal Corporation

রীতেশ তিওয়ারির মন্তব্যের পরে সরিয়ে দেওয়া হল পুরসভার ১০ জন ডিজিকে, বদলি করা হল বিল্ডিংয়ের ডিজিকেও

সরানো হল পুরসভার ১০ জন ডিজিকে। বিজেপি বিধায়ক নাম না করে পুর প্রশাসক স্মিতা পান্ডেকে নিশানা করেছিলেন। তার পরেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

(বাঁ দিক থেকে) পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে এবং বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪১

পুর পরিষেবা নিয়ে বিজেপি বিধায়কের বিস্তর অভিযোগের পরে সরানো হল পুরসভার ১০ জন ডিজিকে। বিল্ডিং বিভাগের ডিজিকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিকাশি ব্যবস্থা এবং শহরে ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পরেই ১০ জন ডিজিকে সরিয়ে দিয়েছেন পুর প্রশাসক স্মিতা পান্ডে।

মঙ্গলবার নির্দেশিকা জারি করেছে কলকাতা পুরসভা। চিফ মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং জঞ্জাল সাফাই বিভাগের (এসডব্লিউএম) দায়িত্বে ছিলেন শুভাশিস চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে কেএমসি প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। এ বার সেই দায়িত্ব থেকেও তাঁকে সরানো হয়েছে। নতুন করে তাঁকে ডিজি স্টোর অ্যান্ড পারচেজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন আগে কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির বক্তব্য, জুনের শুরু থেকেই কাশীপুর এলাকার নোংরা-আবর্জনায় ভরা ৩০ টিরও বেশি পুকুর ও ডোবা পরিষ্কারের জন্য তিনি কলকাতা পুরসভারকে লিখিত ভাবে জানিয়েছিলেন। অভিযোগ, পরিবেশ ও নিকাশি বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকদের (ডিজির) সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও আমলারা কোনও কার্যকরী পদক্ষেপই করেননি।

বিজেপি বিধায়ক রীতেশ মনে করেন, কলকাতা পুরসভায় পুরসভার আধিকারিক এবং নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে সংঘাত রয়েছে। ভুল পরিসংখ্যান দিয়ে উপরতলাকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিধায়কের অভিযোগ, সম্প্রতি রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল যখন কাশীপুর-বিটি রোড সংলগ্ন অঞ্চলে ডেঙ্গি পরিস্থিতি সশরীরে খতিয়ে দেখতে আসেন, তখন পুর আধিকারিকরা মন্ত্রীকে আসল উপদ্রুত এলাকাগুলি দেখানইনি। রীতেশ তিওয়ারির দাবি, মন্ত্রী যাতে মশার লার্ভা ও আবর্জনাভর্তি ডোবাগুলো যাতে দেখতে না পান, তার জন্য আধিকারিকেরা অত্যন্ত সুকৌশলে মাত্র ৫০ মিটারের একটি আগে থেকে পরিষ্কার করে রাখা ‘বাছাই’ করা অঞ্চল ঘুরিয়ে মন্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছেলেন।

বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি যে কলকাতা পুরসভার বর্তমান পরিষেবা নিয়ে যে একেবারেই অসন্তুষ্ট তা-ও স্পষ্ট করেছেন। পুরসভার কমিশনার তথা পুরপ্রসাশক স্মিতা পান্ডেকে নাম না করে নিশানা করে বলেন, “গত ৩-৪ মাসে কলকাতা পুরসভার পরিষেবা বিগত তৃণমূল জমানার চেয়েও খারাপ রূপ ধারণ করেছে। শুধুমাত্র ফটোশুট করে বা পুরভবনে বসে বড় বড় প্রেস কনফারেন্স (সাংবাদিক বৈঠক) করে ডেঙ্গির মতো  পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায় না।”

এ ছাড়াও, উৎসবের মরশুমে কলকাতা শহরে একাধিক রাস্তা ভেঙেচুড়ে একাকার। বৃষ্টির কারণে রাস্তা মেরামতির কাজ সম্পন্ন করা না গেলে মহালয়ার আগেই শহরের সমস্ত রাস্তা মেরামতি করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়। ৬ অক্টোবর সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে। গতকাল রবিবার পর্যন্তও শহরের একাধিক রাস্তা মেরামতি না হওয়ারও ছবি দেখা সামনে এসেছে। কিন্তু পুর কমিশনার জানিয়েছিলেন তাঁদের কাছে রাস্তার গর্ত মেরামতি করার জন‍্য একাধিক গাড়ি রয়েছে। তাঁরা কাজ করেছে। যদিও সেই কাজ এখনও শেষ হয়নি। তাই কবে রাস্তা মেরামতির কাজ শেষ হয় সেটাই দেখার।

আবার বিল্ডিং বিভাগের ডিজি উজ্জ্বল সরকারকে ওই পদ থেকে সরিয়ে ডিজি উত্তরণ সার্ভিসেসের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উত্তরণ সার্ভিসেসের আওতায় রয়েছে শহরের বস্তিগুলি। বিল্ডিং বিভাগের অ্যাক্টিং ডিজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার বিপ্লব পালকে।

রোডস বিভাগের ডিজি পদে আর থাকছেন না সুকান্ত দাস। তাঁকে ডিজি অ্যাসফল্টাম এবং সাংসদ-বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় রোডস বিভাগের নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন শুভজিৎ দাশগুপ্ত। এর আগে তিনি মার্কেট বিভাগের ডিজি পদে ছিলেন। তবে পুজো পর্যন্ত রোডস বিভাগের কাজকর্মে সুকান্ত দাস তাঁকে সহযোগিতা করবেন।

বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির কড়া মন্তব্যের পরেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের সরানো হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পুর পরিষেবার হাল তলানিতে চলে যাওয়া নিয়ে ‘তৃণমূল জমানার’ সঙ্গে তুলনা করায় দল বিড়ম্বনায় পড়ে। তাই এই বদল বলেও মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।


Share