Murder Case

শৌচালয় থেকে উদ্ধার দেহ, বলাগড়ে শিশুখুনে দাদুর যাবজ্জীবন, রায় দিল চুঁচুড়া আদালত

তদন্তে উঠে আসে, বাড়ির শৌচালয় থেকেই বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির দেহ উদ্ধার হয় এবং শ্বাসরোধ করে খুনের প্রমাণ মেলে। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে ঠাকুমা ও জেঠিমাকে খালাস দিয়েছে আদালত।

অভিযুক্ত দাদুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত
নিজস্ব সংবাদদাতা, বলাগড়
  • শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০২:০২

হুগলির বলাগড়ে ২০২৪ সালের একটি নৃশংস শিশুখুনের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল চুঁচুড়া আদালত। পাঁচ বছরের শিশু স্বর্ণাভ সাহাকে খুনের অভিযোগ দাদুর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দাদু শম্ভু সাহাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার আদালত এই রায় ঘোষণা করে।

ঘটনাটি গুপ্তিপাড়ার বাধাগাছি এলাকার। ২০২৪ সালের ২৩ নভেম্বর হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায় যাদব ও সুপ্রিয়া সাহার একমাত্র ছেলে স্বর্ণাভ (৫)। পরিবারের পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও খোঁজাখুঁজি করে। তবে তার কোনও হদিস পাননি। পরে বলাগড় থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ বাড়ির শৌচালয় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির দেহ উদ্ধার করে। চুঁচুড়া হাসপাতালে ময়নাতদন্তে জানা যায়, তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। সন্দেহের ভিত্তিতে দাদু শম্ভু সাহা, ঠাকুমা চায়না সাহা ও জেঠিমা টুম্পা মজুমদারকে গ্রেফতার করে। তদন্তে উঠে আসে, যে শৌচালয় থেকে দেহ উদ্ধার হয়েছিল সেটি তালাবদ্ধ থাকত। তার চাবি মূলত দাদুর কাছেই থাকত। পাশাপাশি পারিবারিক অশান্তির বিষয়টিও সামনে আসে। সরকারি কৌঁসুলি শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ভালোবেসে বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ থেকেই অভিযুক্ত তাঁর বৌমাকে হুমকি দিতেন। যা সাক্ষ্যপ্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

সবদিক খতিয়ে দেখে আদালত শম্ভু সাহাকে দোষী সাব্যস্ত করে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে ঠাকুমা ও জেঠিমাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় যেমন ন্যায়বিচার মিলেছে। তেমনই পারিবারিক দ্বন্দ্ব কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।


Share