Forced Conversation

ধর্মান্তরণের জন‍্য দেওয়া হচ্ছিল চাপ, অপমানে গোদাবরী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী ইঞ্জিনিয়ারের পরিবার, গ্রেফতার রাইফেল শ্যুটিং প্রশিক্ষক সাদিক খান

ঘটনার পর থেকেই শেখ সাদিক খান পলাতক ছিল। পরবর্তীতে উত্তরপ্রদেশে তার খোঁজে মেলে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সাহায্যে মেরঠে অভিযান চালিয়ে সাদিককে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত সাদিক খানকে আদালত ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে শেখ সাদিক খানকে হেফাজতে নেওয়া হতে পারে জানা গিয়েছে।

(বাঁ দিক থেকে) সৌজন‍্যা, নকুরাজু, মীনা এবং শেখ সাদিক খান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, অন্ধ্রপ্রদেশ
  • শেষ আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫৬

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে দেওয়া হচ্ছিল চাপ। কথা না মানায় করা হচ্ছিল ব্লাকমেল। ভয় দেখিয়ে নেওয়া হচ্ছিল টাকাও। অপমান সহ্য করতে না পেরে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন অন্ধ্রপ্রদেশের একই পরিবারের তিনজন। ঘটনায় অভিযুক্ত শেখ সাদিক খানকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সাদিককে আপাতত জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

গত ১৬ অগস্ট অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া জেলায় ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গিয়েছে, ওই দিন রাজামহেন্দ্রভরমের কাছে একটি রেলসেতুর ওপরে নকুরাজু, তাঁর স্ত্রী মীনা, তাঁর মেয়ে সৌজন‍্যা এবং তাঁর নাতি রেয়াংশকে নিয়ে যায়। সেখান থেকেই গোদাবরী নদীতে চারজনে একসঙ্গে ঝাঁপ দেন। পুলিশ রেয়াংশকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু তাঁর মা সৌজন‍্যা, তাঁর দাদু নকুরাজু ও তাঁর দিদিমা মীনাকে বাঁচাতে পারেনি। নকুরাজু অন্ধ্রপ্রদেশের পঞ্চায়েত দফতরের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

কেন তাঁরা এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তা-ও জানিয়ে দিয়ে গিয়েছেন। মৃত্যুর আগে তাঁরা দু’টি সুইসাইড নোট লিখেছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। সেই দু’টি সুইসাইড নোট পুলিশ উদ্ধার করেছে। তা থেকে বিস্ফোরক তথ্য পুলিশ জানতে পেরেছে। জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। একটি সুইসাইড নোট সৌজন‍্যা লিখেছেন। অপরটি সৌজন‍্যার বাবা নকুরাজু লিখেছেন।

অভিযুক্ত শেখ সাদিক খান সৌজন‍্যাকে রাইফেল শ্যুটিংয়ের প্রশিক্ষণ দিত বলে পুলিশ জানিয়েছে। সুইসাইড নোটে সৌজন‍্যা দাবি করেছেন, তাঁর শ্যুটিংয়ের প্রশিক্ষক শেখ সাদিক খান তাঁকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন‍্য চাপ দিচ্ছিল। সাদিকের কথা না মানায় তাঁকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সৌজন্যার ব‍্যক্তিগত ছবি সমাজমাধ‍্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার জন‍্য ভয় দেখাচ্ছিল। ছবি যাতে না ভাইরাল করা হয় তার জন‍্য তোলাবাজিও করা হয়েছিল বলে সৌজন‍্যা সুইসাইড নোটে উল্লেখ করেছেন।

এখানেই শেষ নয়, সুইসাইড নোটে সৌজন‍্যা আরও লিখেছেন, তাঁর স্বামী জগদীশ রেড্ডি মারা গিয়েছেন। সাদিক খান জগদীশকে বিষ মেশানো খাবার খাইয়েছিলেন। তার জেরেই জগদীশের মৃত্যু হয়েছে। পরে জগদীশের বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু খুনের ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়েছিল এই সাদিক খান।

অপর সুইসাইড নোটে সৌজন‍্যার বাবা নকুরাজু তাঁদের মৃত্যুর জন‍্য সাদিক খানকেই দায়ী করেছেন। নকুরাজু সুইসাইড নোটে লিখেছেন, তাঁর জামাই জগদীশের মৃত্যুর পর শেখ সাদিক খান তার বিধবা মেয়ের পাশে থাকার আশ্বাস দেয়। সৌজন্যাকে আর্থিক সাহায্য করার প্রস্তাব দেয়। সৌজন্যাকে ভুল বুঝিয়ে তার জীবনে প্রবেশ করে। এরপর সে পরিবারটিকে হুমকি দিতে শুরু করে। হয়রানি করতে শুরু করে সাদিক খান।

ঘটনার পর থেকেই শেখ সাদিক খান পলাতক ছিল। পরবর্তীতে উত্তরপ্রদেশে তার খোঁজে মেলে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সাহায্যে মেরঠে অভিযান চালিয়ে সাদিককে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত সাদিক খানকে আদালত ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে শেখ সাদিক খানকে হেফাজতে নেওয়া হতে পারে জানা গিয়েছে।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, নোট দুটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জগদীশের মৃত্যুতে সাদিকের ভূমিকা কী ছিল তা-ও দেখা হচ্ছে।


Share