Organ Smuggling

কিডনি পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার রেট চার্ট, হাজির করানো হবে আদালতে

কাজের টোপ দিয়ে মঙ্গল মন্ডল নামে এক যুবককে পঞ্জাবের লুধিয়ানায় নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গল কলকাতার একটি গ্লাভসের কারখানায় কাজ করত। তাঁকে বেশি অঙ্কের টাকার বেতন দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। রক্ত পরীক্ষা করানোর পরে সোজা হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, সেখানেই মঙ্গলের শরীর থেকে একটি কিডনি বের করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

ধৃতের নাম রাসেল আহমেদ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬ ০২:৪৪

কিডনি পাচারের অভিযোগে এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত যুবকের নাম রাসেল আহমেদ। এই মামলায় আরেক ধৃত প্রভাস মন্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই রাসেলের নাম উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালেরও রাসেল কিডনি পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল। তাকে দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে পাচারচক্রকে আরও বিস্তৃত করেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এই কিডনি পাচারচক্র রমরমা রয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে।

রাসেল আহমেদ আদতে বাংলাদেশের নাগরিক। গত চার মাস ধরে এ রাজ‍্যে পরিবারের সঙ্গে নিউ টাউনে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছে। এই রাজ‍্যে এসে পরিচয় গোপন করে আধারকার্ড, প‍্যানকার্ড বানিয়েছিল। শনিবার রাতে রাসেলকে বাগুইআটি থেকে রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেফতার করে। তার পরে বিধাননগর দক্ষিণ থানার হাতে তুলে দেয়।

কাজের টোপ দিয়ে মঙ্গল মন্ডল নামে এক যুবককে পঞ্জাবের লুধিয়ানায় নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গল কলকাতার একটি গ্লাভসের কারখানায় কাজ করত। তাঁকে বেশি অঙ্কের টাকার বেতন দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। সেখানে সাকিল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। রক্ত পরীক্ষা করানোর পরে সোজা হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, সেখানেই মঙ্গলের শরীর থেকে একটি কিডনি বের করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে বিধাননগর হাসপাতালের ভর্তি করা হয়। তাঁর আলট্রা সোনোগ্রাফি করানো হয়। তাতে শরীরে একটি কিডনি থাকার প্রমাণ মেলে। একটি কিডনি নেই। এর পরেই পরিবারের সদস্যরা গত ১৮ অগস্ট বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার অঙ্গ পাচার-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়।

তদন্তে নেমে প্রভাস মন্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। তাঁরও একটি কিডনি নেই বলেই জানান রাজ‍্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁকে জেরা করেই এই রাসেল আহমেদের নাম উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে। আর্থিক ভাবে দুর্বল পরিবারদের টার্গেট করত এই কিডনি পাচার চক্রের মাথারা।

পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃত রাসেলের কাছ থেকে রেট চার্ট পাওয়া গিয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালের কাগজও মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। কোন হাসপাতালে কতগুলি কিডনির প্রয়োজন রয়েছে তার উল্লেখ রয়েছে। রাসেলকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দক্ষিণ বিধাননগর থানার পুলিশ। রবিবার রাসেলকে বারাসত আদালতে পেশ করা হবে।


Share