Calcutta High Court

ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার অভিষেকের দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ, জামিনের সুযোগ দিল হাই কোর্ট, অনিশ্চয়তায় ক্রিকেট কেরিয়ার

তবে আদালত দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে জানিয়ে দিয়েছে, নিয়ম মেনেই মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হবে। পাশাপাশি, অভিষেক চাইলে জামিনের আবেদন করতে পারবেন বলেও আদালত স্পষ্ট করেছে।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৬ ০১:৩৯

গ্রেফতারির বিরুদ্ধে দ্রুত শুনানির আবেদন করেছিলেন বাংলার ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েল। তবে কলকাতা হাই কোর্ট সেই আবেদনে সাড়া দিল না। ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত অভিষেককে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি চাইলে জামিনের আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু তাঁর মামলার দ্রুত শুনানি হবে না। আদালতের নির্ধারিত তালিকা মেনেই শুনানি হবে।

সোমবার অভিষেকের আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায় কলকাতা হাই কোর্টে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। আদালতে তিনি জানান, অভিষেকের মামলায় ইতিমধ্যেই চার্জশিট পেশ হয়ে গিয়েছে। গ্রেফতারের আশঙ্কা থেকেই এই মামলা করা হয়েছিল। কিন্তু মামলা চলাকালীনই অভিষেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, মামলা বিচারাধীন থাকায় এখন জামিনের আবেদনও করা যাচ্ছে না। তবে আদালত দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে জানিয়ে দিয়েছে, নিয়ম মেনেই মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হবে। পাশাপাশি, অভিষেক চাইলে জামিনের আবেদন করতে পারবেন বলেও আদালত স্পষ্ট করেছে।

অভিষেকের আইনজীবী আদালতে জানান, সামনেই রাজ্যের দল নির্বাচন। তার আগে জামিনের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হলে ক্রিকেটার সমস্যায় পড়তে পারেন। তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে দেন। আদালত জানায়, অভিষেক যেহেতু ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন, তাই তিনি চাইলে জামিনের আবেদন করতে পারেন। তবে মামলার তালিকা অনুযায়ী সেই আবেদনের শুনানি হবে। আদালতের এই নির্দেশে অভিষেকের ক্রিকেট কেরিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল। কর্নাটকের এক তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও ধর্ষণের অভিযোগে গত ১১ অগস্ট অভিষেককে তাঁর বাড়ি থেকে হুগলির মগরা থানার পুলিশ গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে বিএনএসের ৬৯, ৩১১, ৩১৮-সহ একাধিক ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬/৭২ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।

গত ২৩ জুন হুগলির মগরা থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে কর্নাটকের ওই তরুণী ডাক্তারি পড়ুয়া অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অভিষেকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। দু’জনে বিয়ের সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। একসঙ্গে বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার কথাও জানান তরুণী। তবে প্রায় দেড় বছর আগে তাঁদের সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। সেই সময় বিষয়টি থানাতেও গড়িয়েছিল। যদিও তখন কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পরে চলতি বছরে পুলিশের কাছে ওই তরুণী অভিযোগ।

অভিযোগ দায়েরের পর বেশ কয়েক দিন কেটে গেলেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ না করায় তিনি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলার শুনানিতে হাই কোর্টের বিচারপতি অভিষেককে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের পরই মগরা থানার পুলিশ পদক্ষেপ করে।

অভিষেক গত আইপিএলেই দিল্লি ক্যাপিটালস দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন। বাংলার হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদেই তিনি আইপিএলের মঞ্চে সুযোগ পান। ঋষভ পন্থের বিকল্প হিসেবে তাঁকে দলে নেওয়া হয়েছিল। যদিও অভিষেক সেই মরসুমে মাত্র চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। ব্যাট হাতেও তেমন সাফল্য পাননি। তা সত্ত্বেও দিল্লি তরুণ উইকেটরক্ষকের উপর থেকে আস্থা সরায়নি। আরও একটি মরসুম তাঁকে ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ফ্র্যাঞ্চাইজি। অভিষেক দিল্লির সেই আস্থার মর্যাদা দিয়েছেন। চলতি আইপিএলে ব্যাট হাতে তাঁর পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে। কিন্তু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারির পর এখন তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারই অনিশ্চয়তার মুখে।


Share