Suicide

ফোনে শেষ কথা বলেই আত্মহত্যা প্রেমিকের, পরে আত্মঘাতী প্রেমিকাও, আর্থিক বৈষম্যের অভিযোগ

উত্তর ২৪ পরগনার মাটিয়া থানার মোমিনপুর এলাকায় প্রেমের সম্পর্ক পরিণতি না পাওয়ায় মর্মান্তিক পরিণতি। পরিবার বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ফোনে প্রেমিকার সঙ্গে শেষ কথা বলেই আত্মহত্যা করেন প্রেমিক, পরে আত্মঘাতী হন প্রেমিকাও। সোমবার সকালে দুই বাড়ি থেকেই যুগলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মাটিয়া
  • শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৭

আর্থিক বৈষম্যতা ভালোবাসার সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ালো। সম্পর্ক পরিণতি না পাওয়ায় যুগলের ভয়াবহ সিদ্ধান্ত। ফোনে প্রেমিকার সঙ্গে শেষ কথা বলেই আত্মঘাতী প্রেমিক। এর পর প্রেমিকাও নিজেকে শেষ করে দিলেন। যুগলের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে উত্তর ২৪ পরগনায় তীব্র শোরগোল ছড়িয়েছে। ঘটনাটি মাটিয়া থানার অন্তর্গত মোমিনপুর এলাকায় ঘটেছে। 

সোমবার সকালে দুই বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় দুটি ঝুলন্ত দেহ। মৃতদের নাম ফারুক গাজি ও করিমা খাতুন। ২৪ বছর বয়সি ফারুক পেশায় দর্জি ছিলেন। ২০ বছরের করিমা ছিলেন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। দু’জনেই ছিলেন প্রতিবেশী। জানা গিয়েছে, তাঁরা প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। সম্প্রতি দু'জনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। ফারুকের পরিবারের কোনও আপত্তি ছিল না। কিন্তু করিমার পরিবার এই সম্পর্ক মানতে রাজি হয়নি। অভিযোগ, আর্থিক বৈষম্যই ছিল প্রধান বাধা। 

করিমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলক ভালো। ফারুকের পরিবার একাধিকবার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে করিমার বাড়িতে যায়। তবে প্রতিবারই তাঁরা ব্যর্থ হন। রবিবার রাতে ফারুক করিমাকে ফোন করেন। ফোনেই জানান, তাঁদের সম্পর্কের কোনও ভবিষ্যৎ নেই। আবার করিমাকে ছেড়ে বাঁচতেও পারবেন না বলেও তিনি জানান । এর পরই ফারুক আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

সোমবার সকালে প্রথমে ফারুকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই করিমার বাড়ি থেকেও তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। দু’জনেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক অনুমান। ফারুকের কাকা জাকির হোসেন গাজির দাবি, ‘‘পাঁচ বছর ধরে দু’জনের সম্পর্ক ছিল। আমরা মেয়ের বাড়ির সঙ্গে বহুবার কথা বলেছি। কিন্তু পেশা ও রোজগারের অজুহাতে বিয়েতে রাজি হয়নি ওঁরা।’’ যদিও করিমার বাবা বাবর আলি মণ্ডল এই দাবি অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘‘মেয়ের কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে আমরা জানতাম না। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, সেটাও বুঝে উঠতে পারছি না।’’ 

খবর পেয়ে মাটিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। পুলিশ দুটি দেহ উদ্ধার করে। দেহ দু'টিকে ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুই পরিবারের সদস্যদের আলাদা করে থানায় ডাকা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।


Share