Special Intensive Revision

আদালতে ধাক্কা খেল রাজ‍্য সরকার, ‘ফর্ম ৭’ বোঝাই গাড়ি আটকে তিন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ, জামিন দিয়ে দিল আদালত

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরুপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আদালতে জামিন হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাঁরা নির্দোষ। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। কে বা কারা ‘ফর্ম-৭’ পূরণ করে জমা দেওয়ার চেষ্টা করছিল তা পুলিশ তদন্ত করে দেখবে। তারপর এর বিচার হবে।’’

বুধবার ধৃত তিন জনেরই জামিন মঞ্জুর করেন খাতড়া মহকুমা আদালতের বিচারক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া
  • শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:০১

আবার আদালতে ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার দুপুরে কয়েক জন তৃণমূলকর্মী ‘ফর্ম-৭’ বোঝাই গাড়ি ধরেছিলেন। গাড়ি আটকের পরে পুলিশ তিনজন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছিল। বুধবার ধৃতদের বাঁকুড়ার খাতড়া মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। বিচারক তিন জনেরই জামিন মঞ্জুর করেছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে খাতড়ার সিনেমা রোড এলাকায় ‘ফর্ম-৭’ বোঝাই একটি গাড়িকে আটকান তৃণমূল কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, বিজেপির কর্মীরা ভোটারদের নাম কাটার উদ্দেশ্যে এতো ‘ফর্ম ৭’ নিয়ে যাচ্ছিলেন। সূত্রের খবর, বিজেপি কর্মীরা ওই ‘ফর্ম ৭’-গুলি নিয়ে ইআরও-র কাছে জমা দিতে যাচ্ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই অভিযোগ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছিল বিজেপি। পরবর্তী এমন ঘটনা ঘটলে জেলার প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নিতেও নির্দেশ দেন তিনি। 

তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে, গাড়িটিকে পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে। সেই সঙ্গে সঙ্গে দুই বিজেপি কর্মীকে খাতড়া থানার পুলিশ আটক করে। জানা গিয়েছে, ওই গাড়িতে ছিলেন তালড্যাংরা থানার বিবড়দা গ্রামের বাসিন্দা প্রবীর ঘোষ। তিনিই সাদা রঙের গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। গাড়িতে বসেছিলেন বিজেপি কর্মী প্রবীর ঘোষ এবং সিমলাপাল ব্লকের বিজেপি নেতা শরদিন্দু পাত্র। বিজেপির দু’জনকেই পরে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার রাতে সিমলাপাল এলাকার বিজেপি নেতা দুঃখরঞ্জন সৎপতিকে গ্রেফতার করা হয। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(২), ৩১৯ (২), ৩৩৬(২), ৩৩৮, ৩৩৯,৩৪০(২) এবং ৬১(২) নম্বর ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। এর মধ্যে ৩৩৮ নম্বর ধারা জামিন অযোগ্য।

আদালত সূত্রে খবর, ধৃতদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, বেআইনি ভাবে সরকারি নথি নিয়ে যাওয়া, সরকারি নথি জালিয়াতি ও সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় নথি জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। এ দিন ধৃত তিন বিজেপি কর্মীকে আদালতে হাজির করানো হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে রাজ‍্যের অভিযোগ ধোপে টেকেনি। পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হলেও তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার ধৃত তিন জনেরই জামিন মঞ্জুর করেন খাতড়া মহকুমা আদালতের বিচারক।

এর পরেই তিন জন দলীয় কর্মীকে ফুলের মালা পরিয়ে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তাঁদের নিয়ে খাতড়া মহকুমা আদালত চত্বরে মিছিল করে বিজেপি। বিজেপি কর্মী শরদিন্দু বলেন, ‘‘এসআইআরের ‘ফর্ম-৭’ আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে জমা দেওয়ার সময়সীমা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাই মঙ্গলবার নিয়ম মেনে আমরা কয়েক জন বিজেপি কর্মী খাতড়া মহকুমাশাসকের দফতরে এইআরও-র কাছে ওই ফর্ম জমা করতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু রাস্তায় আমাদের উপর হামলা চালায় তৃণমূলের জনা চল্লিশ দুষ্কৃতী। আমাদের শারিরীক ভাবে হেনস্থা করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আদালত বিষয়টি বুঝেছে। আমরা খুশি।’’

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার বলেন, ‘‘তৃণমূল ও পুলিশ প্রশাসন পরিকল্পিত ভাবে বিজেপি কর্মীদের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল। সম্পূর্ণ ভাবে রাজনৈতিক উদ্যেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা। আদালত তা বুঝতে পেরে তিন জনের জামিন মঞ্জুর করেছে।’’ তিনি জানান, বাজেয়াপ্ত করে রাখা ‘ফর্ম-৭’-সহ গাড়িটি যাতে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, সে জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরুপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আদালতে জামিন হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাঁরা নির্দোষ। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। কে বা কারা ‘ফর্ম-৭’ পূরণ করে জমা দেওয়ার চেষ্টা করছিল তা পুলিশ তদন্ত করে দেখবে। তারপর এর বিচার হবে।’’

ভোটার তালিকায় কোনও নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করা বা মৃত বা স্থানান্তর হওয়া ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে ব্যবহৃত হয় ‘ফর্ম-৭’। বাঁকুড়ার খাতড়ায় ‘ফর্ম ৭’ উদ্ধারের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন অভিযোগ কার্যত খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন মনে করছে, এক সঙ্গে এতো ‘ফর্ম ৭’ নিয়ে যাওয়ায় আইনের উলঙ্ঘন হয়নি। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘ফর্ম ৭’ যে কেউ নিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু সেই ফর্মে ভোটারকেই সাক্ষর করতে হবে। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এক কর্তা জানান, কোনও রাজনৈতিক দলের বুথ স্তরের এজেন্ট (বিএলএ) নিজেই ৫০টি দিনে বন্টন করতে পারেন। এই সংক্রান্ত কোনও নিয়ম নেই। ওটা ব‍্যক্তিগত জিনিস। 

মুখ‍্যমন্ত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি আরও বলেন, “গাড়িতে করেই আনা হোক কিংবা হেলিকপ্টার, ‘ফর্ম ৭’ নিয়ে আসতে পারেন। এতে কোনও অসুবিধা নেই।”


Share