Howrah Gang War

হাওড়ায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ঘিরে গ্যাং-ওয়ার, টানা তিন দিন সংঘর্ষে আতঙ্ক ওড়িয়াপাড়া–নন্দীবাগানে

গত তিন দিনে একাধিকবার গুলি চলার ঘটনায় তপন বারিক নামে এক দুষ্কৃতী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। টানা হামলা ও ভাঙচুরে আতঙ্কিত বাসিন্দারা কড়া পুলিশি পদক্ষেপের দাবি তুললেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া
  • শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:৪৬

হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার অন্তর্গত ওড়িয়াপাড়া ও নন্দীবাগান এলাকায় দু’টি দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে গত তিন দিনে কমপক্ষে সাত রাউন্ড গুলি চলেছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। ঘটনায় তপন বারিক নামে এক দুষ্কৃতী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনায় তিনি হাওড়া জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর সোমবার ভোরে এবং মঙ্গলবার গভীর রাতে ৩০–৪০ জন দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র ও ভোজালি নিয়ে এলাকায় ঢুকে পড়ে। তারা এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। বাড়ি বাড়ি ভাঙচুর করে। এর জেরে ওড়িয়াপাড়া ও নন্দীবাগান এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। টানা তিন দিনের এই সংঘর্ষে ভীত বাসিন্দারা অবিলম্বে কড়া পুলিশি পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন। যদিও বুধবার পর্যন্ত এই ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশ ও স্থানীয়দের দাবি, এলাকার মাদক বেচাকেনার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে—তা নিয়েই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। আর সেটাই ধীরে ধীরে ‘গ্যাং-ওয়ার’-এর রূপ নেয়। অত্যন্ত স্পর্শকাতর পিলখানা এলাকার লাগোয়া এই দুই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসার আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ, এখান থেকেই হাওড়া স্টেশন চত্বর, দিঘা বাস স্ট্যান্ড, ফকির বাজার, কিংস রোড কাটপুল ও মাদ্রাজি পাড়ায় গাঁজা, চরস, হেরোইন ও বেআইনি মদ সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি অভিযোগ স্টেশন চত্বরে হকারদের কাছ থেকে তোলাবাজি ও জুয়ার ঠেক নিয়ন্ত্রণেও এই সব গোষ্ঠীর ভূমিকা রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর হাওড়ার এই এলাকা আগে শাসকদলের ঘনিষ্ঠ অবিনাশ ঘোষ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে সম্প্রতি অবিনাশের ডান হাত ছোটুর সঙ্গে তার প্রাক্তন বন্ধু বিশাল রাউত ওরফে পাঁচুর মাদক ব্যবসা নিয়ে বিবাদ শুরু হয়। অভিযোগ, পাঁচু বহিরাগত দুষ্কৃতীদের নিয়ে আলাদা দল গড়ে তোলে। রবিবার রাতে পাঁচু ওই বহিরাগতদের নিয়ে বাড়িতে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেছিল। সেই খবর পেয়ে সনাতন মিস্ত্রি লেনে অবিনাশ গোষ্ঠীর তপন বারিকের সঙ্গে পাঁচু-ঘনিষ্ঠ সুচিত সিংহ ও রাজ পাণ্ডে ওরফে মাখনের তীব্র বাদানুবাদ হয়। সেই সময়ই গুলি চলে। ঘটনায় তপন গুলিবিদ্ধ হয়। অভিযোগ, এর বদলা নিতে সোমবার ও মঙ্গলবার অবিনাশ গোষ্ঠীর লোকজন পাঁচুর বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে ভাঙচুর করে।

বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ঘিঞ্জি ও সঙ্কীর্ণ গলিগুলিতে থমথমে পরিবেশ। এত বড় ঘটনার পরেও এলাকায় দৃশ্যমান পুলিশি প্রহরা না থাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা বলেন, “তিন দিন ধরে রাতে ঘুমাতে পারছি না। বাইরে বেরোতে ভয় লাগছে।” স্থানীয় বাসিন্দা সুমিত পাণ্ডে জানান, “মাদক বেচাকেনা বন্ধ না হলে এই ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে।” এ বিষয়ে হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা জানান, “রবিবারের ঘটনার পর অভিযুক্তেরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। কাউকেই ছাড়া হবে না। তদন্ত চলছে।”


Share