Suvendu Adhikari

কয়লা-পাচার মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করার হুঁশিয়ারি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পাল্টা তৃণমূল নেতৃত্ব শুভেন্দুর অভিযোগ খারিজ করে বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখার বার্তা দিয়েছে

শুভেন্দু অধিকারী
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:৫৩

কয়লা পাচার সংক্রান্ত মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। এই মন্তব্যের জেরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ছিল, কয়লা পাচারের টাকা শুভেন্দু অধিকারীর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে পৌঁছোয়। এই অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই বলে স্পষ্ট দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে মানহানির আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন।তবে নোটিস পাঠানোর পর ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনও তথ্য-সহ জবাব মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে আইনি পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, অভিযোগের সত্যতা আদালতেই যাচাই হবে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট দাবি করেন।

কয়লা পাচার সংক্রান্ত মন্তব্যের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে এখনও কোনও প্রমাণ-সহ জবাব মেলেনি। এর জেরে বুধবার ঝাড়গ্রামে মুখ খুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন "ওঁর অভিযোগ ভিত্তিহীন। মানহানির চিঠি পাঠিয়েছিলাম, জবাব দেননি। কলকাতা হাই কোর্টে ১৬ তারিখ মামলা করব। আদালতেই ফয়সালা হবে।" বিরোধী নেতার সংযোজন, "ওঁর আচরণে স্পষ্ট, কয়লা কেলেঙ্কারিতে আমার নাম জড়িত বলে কল্পিত অভিযোগগুলির স্পষ্ট প্রমাণ নেই। অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত।"

রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পাল্টা জবাব বলেছেন, "উনি (শুভেন্দু) আদালতকে বগলদাবা করে ফেলেছেন ভাবলে, সেটা ঠিক নয়। আমরা বিচার-ব্যবস্থার উপরে ভরসা রাখি।" দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর সংযোজন, "শাহের মন্ত্রকের অধীনস্থ সিআইএসএফ-এর সহযোগিতা ছাড়া কয়লা পাচার সম্ভব নয়। অন্ডাল বিমানবন্দরে শাহকে স্বাগত জানিয়েছিলেন কয়লা মাফিয়া জয়দেব খাঁ। তখন শুভেন্দুও বিজেপির নেতা। মুখ্যমন্ত্রী ঠিক বলেছেন, শুভেন্দু কয়লা-চোর।"

তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্তার বাড়ি ও দফতরে ইডি তল্লাশি চলে। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির প্রতিবাদ জানানো হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে নবান্নে ধর্না কর্মসূচির ঘোষণা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে পুলিশের কাছ থেকে এই কর্মসূচির অনুমতি মেলেনি। এর পর কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন শুভেন্দু। এই বিষয়ে আদালত নবান্নে ধর্নার অনুমতি দেয়নি। তবে বিকল্প হিসেবে নবান্ন বাস স্ট্যান্ড বা মন্দিরতলা বাস স্ট্যান্ডে ধর্নার অনুমতির কথা জানানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিজেপিকে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই জানাতে হবে দুই জায়গার মধ্যে কোনটি তারা বেছে নিচ্ছে।


Share