Bangladeshi YouTuber Arrested

নদিয়ায় আটক বাংলাদেশি ‘ব্লগার’, পাঁচ বছর আগে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পরেও ভারতে বসবাস, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরে অবশেষে গ্রেফতার

রানাঘাট পুলিশ জেলার সুপার আশিষ মৌর্য বলেন, “উনি বাংলাদেশের নাগরিক, সে ব্যাপারে আমরা তথ্য পেয়েছিলাম। ওঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। ওঁর ভিসার মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য উনি আবেদনও করেছেন। গোটা বিষয়টি আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও বিদেশ মন্ত্রককে জানিয়েছি।”

বাংলাদেশি ইউটিউবার মুফতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ
নিজস্ব সংবাদদাতা, কাল‍্যাণী
  • শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০৮

ভারতে থাকার ভিসার মেয়াদ শেষ। তার পরেও বসবাস। সন্দেহজনক গতিবিধির জন্য বাংলাদেশের ব্লগার মুফতি আবদুল্লাহ আল মাসুদকে আটক করা হয়। নদিয়ার গয়েশপুরের ভাড়া বাড়ি থেকে তাকে আটক করে ফাঁড়িতে আনা হয়। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।

জানা গিয়েছে, ওই ব্লগারের নিজস্ব একটি ইউটিউব চ‍্যানেল রয়েছে। সেই ইউটিউব চ‍্যনেলে তিনি ইসলাম ধর্মে গোঁড়ামি নিয়ে নানা তত্ত্বমূলক বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মকে রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করা হয় বলে নানা অভিযোগ করেন। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের একটি ইসলামি ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রকাশ‍্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ২০১৬ সালে মুফতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ জনপ্রিয় হন। ভারতে বসেই নিজস্ব চ‍্যানেলের জন‍্য ভিডিয়ো তৈরি করতেন। 

২০১৭ সালে মুফতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ পর্যটক ভিসায় ভারতে চলে আসেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মুফতি ২০২০ সাল পর্যন্ত ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন। তার পর থেকে আর ভিসার মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি বলে অভিযোগ। তাঁর পাসপোর্টের মেয়াদও শেষ হয়েছে ২০২৪ সালে।

মুফতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ আদতে বাংলাদেশের ফিরোজপুরের বাসিন্দা। ২০২০ সালের পরে ভারতে এসে কলকাতায় থাকতেন। এর পরে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নদিয়ার গয়েশপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি স্কুলশিক্ষকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সেখান থেকেই মাসুদকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

রথীন চক্রবর্তী নামে এলাকার বাসিন্দার কখায়, ওই যুবক খুব একটা বেশি বাড়ির বাইরে বেরোতেন না। কারোর সঙ্গে খুব একটা বেশি কথাও বলতেন না। বাড়িতে বাংলাদেশি লোকেদের যাতায়াত লেগেই থাকত। পুলিশ সূত্রের খবর, গত শুক্রবার কল‍্যাণীর ওই বাড়ি থেকে মুফতিকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

এই বিষয়ে রানাঘাট পুলিশ জেলার সুপার আশিষ মৌর্য বলেন, “উনি বাংলাদেশের নাগরিক, সে ব্যাপারে আমরা তথ্য পেয়েছিলাম। ওঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। ওঁর ভিসার মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য উনি আবেদনও করেছেন। গোটা বিষয়টি আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও বিদেশ মন্ত্রককে জানিয়েছি।”


Share