Sand Scam

বালি পাচার করে ১০৩ কোটি টাকা তুলেছে অরুণ! ভুয়ো চালান ব‍্যবহার করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ, আদালতে দাবি ইডির

২০২০ সাল পর্যন্ত ধৃত অরুণ শ্রফ এবং তাঁর মা জিডি মাইনিং সংস্থার ডিরেক্টর পদে ছিলেন। এর পরে যাঁরা ডিরেক্টর পদে এসেছেন, তাঁরাও অরুণের বাধ‍্য ছিল। অরুণ যেখানে সাক্ষর করতে বলত, সেখানেই তাঁরা সাক্ষর করে দিতেন বলে আদালতে জানিয়েছে ইডি।

ধৃতকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইডি হেফাজতে পাঠাল আদালত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:৩৮

বালি পাচার করে ১০৩ কোটি টাকা তুলেছে অরুণ শ্রফ। চালান জাল করে অতিরিক্ত বালি তুলে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। গতকাল ইডি অরুণ শ্রফকে গ্রেফতার করে ইডি। শুক্রবার তাঁকে বিচারভবনে হাজির করানো হয়েছে।

শুক্রবার আদালতে ইডি জানিয়েছে, সরকারি ই-চালান ব‍্যবহার করে অতিরিক্ত বালি খোঁড়া হয়েছে। সেই অতিরিক্ত বালি পাচার করা হয়েছে। সেই টাকা গিয়েছে অরুণের অ‍্যাকাউন্টে। ১০৩ কোটি টাকার বালি বিক্রির দাবি করলেও আদতে তাঁর অ্যাকাউন্টে ১৩০ কোটি টাকা ঢুকেছে বলে দাবি করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আদালত ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইডি হেফাজতে পাঠিয়েছেন। 

ইডি এ-ও জানিয়েছে, ২০২০ সাল পর্যন্ত ধৃত অরুণ শ্রফ এবং তাঁর মা জিডি মাইনিং সংস্থার ডিরেক্টর পদে ছিলেন। এর পরে যাঁরা ডিরেক্টর পদে এসেছেন, তাঁরাও অরুণের বাধ‍্য ছিল। অরুণ যেখানে সাক্ষর করতে বলত, সেখানেই তাঁরা সাক্ষর করে দিতেন বলে আদালতে জানিয়েছে ইডি।

কী ভাবে বালি বিক্রি করে দুর্নীতি হয়েছে, তা-ও জানিয়েছে ইডি। ইডির দাবি, জাল সরকারি ব‍্যবহার করা হতো। প্রতিটা চালানে কিইআর কোড লাগানো হত। তা ব‍্যবহার করে সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট পরিমানের চেয়ে বেশি বালি উত্তোলন করা হত। এর পরে সেই জাল চালান বারবার ব‍্যবহার করে, একই গাড়ি একাধিকবার গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হত। সেই বালি পাচার করে যে টাকা তোলা হয়েছে, তার মধ্যে ৬০ কোটি টাকার কোনও হিসেব দেখাতে পারেনি অরুণের জিডি মাইনিং সংস্থা। 

এর আগে অরুণ শ্রফকে তিন বার ইডি দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়। প্রথম বার তিনি এলেও দ্বিতীয়বার হাজিরা এড়ান অরুণ। তৃতীয় বার ইডি দফতরে এলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে গ্রেফতার করা হয়। 

এ ছাড়াও, ইডি আদালতকে জানিয়েছে বেআইনি ভাবে বালি পাচার করার অভিযোগে, রাজ‍্য পুলিশ চারটি এফআইআর করেছিল। সেই এফআইআর একত্রিত করে ইসিআইআর করে ইডি। যদিও অরুণের আইনজীবীর দাবি, রাজ‍্য পুলিশের চার্জশিটে তাঁর মক্কেলের নাম ছিল না। বিচারের শেষে সেই মামলায় অভিযুক্তেরা বেকসুর খালাস পেয়ে গিয়েছে। ই-চালান জালিয়াতি নিয়ে ইডির তদন্ত করার এক্তিয়ার আদৌ আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।


Share