Snatching

বার্ধক্য ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা! মোটরসাইকেলে বসিয়ে নিয়ে নির্জন রাস্তায় বৃদ্ধার সোনার বালা হাতিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতী, থানায় অভিযোগ দায়ের

নদিয়ার শান্তিপুরে মোটরবাইকে চাপিয়ে বৃদ্ধাকে গন্ধখোলার নির্জন রাস্তায় নিয়ে হয়ে সোনার বলা ছিনতাইয়ের অভিযোগ যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ছিনতাই হয়েছে বৃদ্ধার সোনার বালা
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:১৫

‘বার্ধক্য ভাতার পান?’ সরকারি ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দুষ্কৃতীদের খপ্পরে পড়লেন বৃদ্ধা। ভুল বুঝিয়ে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে হাত থেকে সোনার বালা খুলিয়ে তা ছিনতাই করে নিয়ে পালিয়ে গেল দুষ্কৃতী। ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন অসহায় বৃদ্ধা। তবে এখনও অভিযুক্তকে খুঁজে পায়নি পুলিশ।

নদিয়ার শান্তিপুরের বাবলা-উত্তরপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গিয়েছে, ওই এলাকার বৃদ্ধা বাসিন্দা গীতারানি পাল বার্ধক্য ভাতার খোঁজ নিতে স্থানীয় পঞ্চায়েতের দফতরের উদ্দেশ্যে বের হন। যাওয়ার মাঝপথে মোটরবাইক গীতাদেবীর পথ আটকায়। বৃদ্ধার বক্তব্য, ওই যুবক নিজেকে সরকারি পরিষেবা প্রদানকারী হিসেবে পরিচয় দেয়। জানায়, তাঁর ভাতার টাকা ঢুকেছে। তা নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে। ওই যুবক বৃদ্ধাকে পরামর্শ দেয়, “ভাতার টাকা নিয়মিত পেতে দরকারি নথিপত্র— আধার ও ভোটার কার্ড লাগবে। আপনি সেগুলি বাড়ি থেকে নিয়ে আসুন।“

অসহায় বৃদ্ধা তাঁকে বিশ্বাস করে। এর পরেই পুনরায় বাড়িতেলফিরে নথিপত্র নিয়ে আবার পঞ্চায়েত দফতরের দিকে যাওয়ার জন‍্য ওই দুষ্কৃতীর কাছে যান। অভিযুক্ত যুবক তাঁকে মোটরবাইকে বসিয়ে পঞ্চায়েত অফিসের সামনে নামিয়ে দেবে বলে প্রস্তাব দেয়। রাস্তা অনেকটা। ওই যুবককের ওপরে ভরসা করে কালো রঙের মোটরবাইকে চড়েন। চালকের মাথায় হেলমেট বা টুপি ছিল বলে বৃদ্ধা জানিয়েছেন। বৃদ্ধার দাবি, তাঁকে পঞ্চায়েত অফিসে না নিয়ে গিয়ে চালক মোটরবাইক রাজাপুকুর পার হয়ে গন্ধখোলার নির্জন রাস্তার দিকে নিয়ে চলে যায়।

বৃদ্ধার বক্তব্য, সেখানে নির্জন জায়গায় মোটরবাইকটি থামানো হয়। এর পরেই ওই দুষ্কৃতী বৃদ্ধাকে জানায়, তাঁর হাতে গয়না রয়েছে। তাই সরকারি খাতায় টিপসই নেওয়া যাবে না। দুই হাত থেকে গয়না খুলতে বলেন। বৃদ্ধার অভিযোগ, জোরপূর্বক তাঁকে গয়নাগুলি খোলানো হয়েছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে একাকী নির্জন রাস্তায় ফেলে রেখে দ্রুত বাইক নিয়ে চম্পট দেয় ওই যুবক। 

ঘটনার পরে আতঙ্কিত ও হতভম্ব হয়ে পড়েন অশীতিপর ওই বৃদ্ধা। কোনওরকমে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটেই তিনি বাড়িতে ফেরেন। গোটা ঘটনাটি পরিবারের লোকজনকে জানান। বৃদ্ধার ছেলে বাদল পালের বক্তব্য, তাঁর মা কাউকে কিছু না জানিয়ে একাই স্থানীয় পঞ্চায়েত অফিসে যাচ্ছিলেন। দুষ্কৃতীরা নথিপত্র নেয়নি। কেবলমাত্র হাতের সোনার গয়না ছিনতাই করে পালিয়ে গিয়েছে। 

ঘটনার বিবরণ শোনার পরে পরিবারের তরফ থেকে শান্তিপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ বৃদ্ধার বয়ানের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করেছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, এলাকায় সিসি ক্যামেরার সংখ্যা কম রয়েছে। তবে নিকটবর্তী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে কে এ ভাবে ছিনতাই করল তাঁকে এখনও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। তাঁকে চিহ্নিত করার কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।


Share