BJP Reshuffle

যাদবপুর বিতর্কের পরে দলীয় পদ থেকে অপসারিত বিধায়ক শর্বরী! রাজ্য বিজেপিতে বড়সড় রদবদল, সাংগঠনিক পদ থেকে সরলেন মন্ত্রীরা

অগ্নিমিত্রা পাল, তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষ-সহ রাজ‍্যের একাধিক দফতরের মন্ত্রীদের রাজ্য কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জায়গায় নতুন মুখকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি এবং বিভিন্ন মোর্চার দায়িত্বেও নতুন মুখ আনা হয়েছে।

রাজ‍্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:২৬

নতুন রাজ্য কমিটি প্রকাশ রাজ‍্য বিজেপির। একাধিক জেলা সভাপতি ও মোর্চার দায়িত্বেও বদল আনল বিজেপি। রাজ‍্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে বদল আনা হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারের বাড়িতে হামলার ঘটনার পরে দলীয় পদ থেকে অপসারণ করা হয়ে বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে। নতুন যুব মোর্চার সভাপতির নামও ঘোষণা করেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

শুক্রবার দুপুরে রাজ্য বিজেপির তরফে সাংগঠনিক কাঠামোয় রদবদলের খবর সামনে এসেছে। তাতে ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতিতে জোর দেওয়া হয়েছে। তাতে সাংগঠনিক পদ থেকে রাজ‍্যের মন্ত্রীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অগ্নিমিত্রা পাল, তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষ-সহ রাজ‍্যের একাধিক দফতরের মন্ত্রীদের রাজ্য কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জায়গায় নতুন মুখকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি এবং বিভিন্ন মোর্চার দায়িত্বেও নতুন মুখ আনা হয়েছে।

বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতির পদে পরিবর্তন করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকে ইন্দ্রনীল খাঁ দলের এই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। নির্বাচনে জিতে তিনি বর্তমানে রাজ‍্যের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী। তাই তাঁকে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিজেপির নতুন যুব মোর্চার সভাপতি হয়েছেন অমিত সামন্ত। তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য। হাওড়ার আমতা থেকে তিনি জিতে বিধায়ক হয়েছেন। এ ছাড়াও, মহিলা মোর্চার সভানেত্রীর পদে ফাল্গুনী পাত্রের জায়গায় আনা হয়েছে অঞ্জনা বসুকে। ওবিসি মোর্চার দায়িত্ব পেয়েছেন ধনঞ্জয় ঘোষ। এসটি মোর্চার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশ্বজিৎ বিশ্বাসকে।

তবে মন্ত্রী না হওয়া সত্ত্বেও রাজ্য কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন শর্বরী মুখোপাধ্যায়। তিনি রাজ্য বিজেপির সম্পাদক পদে ছিলেন। সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা ঘটনা নিয়ে দল বিড়ম্বনায় পড়েছে। তাঁর দলবলের বিরুদ্ধেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। আবার কিছু দিন আগে যাদবপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারের বাড়িতে হামলা ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনাতেও দেবব্রতের ছেলে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের দলবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। দেবব্রতের বাবা কেশব মজুমদার এক সময়ে সঙ্ঘের প্রচারক ছিলেন। তাই এমন ঘটনার পরে যে দল শর্বরীকে ভালো চোখে নেবে না তা কার্যত স্পষ্টই ছিল। শুক্রবারের তালিকায় তা স্পষ্ট হয়ে গেল বলেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

শুক্রবার সাতটি সাংগঠনিক জেলায় সভাপতিদের বদলে দিয়েছেন বিজেপির রাজ‍্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বনগাঁ, বারাসত, শ্রীরামপুর, আরামবাগ, মেদিনীপুর, বর্ধমান এবং কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার নতুন সভাপতিদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হয়েছেন দীপঙ্কর চক্রবর্তী, বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হয়েছেন নৃপেন বিশ্বাস, শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হয়েছে শশী সিংহ, আরামবাগ: সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হয়েছেন প্রশান্ত দিগর, মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হলেন সৌমেন তিওয়ারি, বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হলেন আশিস পাল এবং কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হলেন মানিক রায়।

এ ছাড়াও, রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, এবং সম্পাদক পদেও বেশ কিছু নতুন মুখকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। পুরনো কমিটির একাধিক নেতাকে বহাল রাখা হলেও মন্ত্রীদের সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিজেপি সূত্রে খবর, বাকি সাংগঠনিক জেলাগুলির সভাপতিদের তালিকাও দ্রুত প্রকাশ করা হবে। ফলে নতুন রাজ্য কমিটি ঘিরে আগামী দিনে বিজেপির সাংগঠনিক স্তরে আরও কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

গত পড়শু বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে বদল আনা হয়েছে। আগামী দিনে বিজেপির রাজনৈতিক ভবিষ্যতকে সুরক্ষিত করতে বিভিন্ন রাজ্যের ইনচার্জদের বদল করা হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— স্মৃতি ইরানির হরিয়ানা এবং ছত্তীসগঢ়ের দায়িত্ব পাওয়া, মিডিয়া ইনচার্জ থেকে অনিল বালুনিকে সরিয়ে তাঁকে কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পাঠানো, সুনীল বনসলকে পশ্চিমবঙ্গ এবং তেলেঙ্গানার দায়িত্ব দেওয়া, রাজ‍্যের দায়িত্বে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শৌদান সিংহকে পাঠানো। সেই তালিকায় একাধিক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ থেকে আসা নেতারা জায়গা করে নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়ে অমিত মালব‍্য, সতীশ ধন্দ এবং মঙ্গল পান্ডেকেও।

এর পরে গতকাল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর‍, রাজ‍্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে দিল্লিতে জরুরি ভিত্তিতে ডেকে পাঠানো হয়। সূত্রের খবর সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন, বি এল সন্তোষ, অরুণ কুমার-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। তার পরেই শুক্রবার এই তালিকা প্রকাশ‍্যে আনল রাজ‍্য বিজেপি।


Share