West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill 2026

রাষ্ট্রপতির কাছে এখনও পৌঁছোয়নি ‘গুন্ডা দমন বিল’! রাষ্ট্রপতির বিল ফেরত পাঠানোর খবরকে ‘ভুয়ো’ বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

ভুয়ো ও ভিত্তিহীন খবর ছড়িয়েছে বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “রাষ্ট্রপতির কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক হয়ে এই বিল পৌঁছোয়নি। ফলে এটা একেবারে ভিত্তিহীন, ভুয়ো। আমি আবার নিশ্চিত করছি, দু’টি অংশের বিল ছিল। একটা বাস্তবায়ন হয়েছে। অন্যটাও বাস্তবায়ন হবে।”

সাংবাদিক বৈঠক করছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩৩

‘গুন্ডা দমন বিল’ নিয়ে শুক্রবার দিনভর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চার পর রাতে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে অবস্থান স্পষ্ট করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ওই বিলে অনুমোদন দেননি বা বিলটি ফেরত পাঠিয়েছেন— এমন খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো ও ভিত্তিহীন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিলটি এখনও রাষ্ট্রপতির কাছেই পৌঁছোয়নি। বর্তমানে বিলটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে রয়েছে।

শুক্রবার স্বরাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে পাশে নিয়ে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, বিলটির দুটি পৃথক অংশ রয়েছে। তার মধ্যে একটি অংশ ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে। অন্য অংশটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর দাবি, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পর রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। সেখান থেকেই রাজ‍্য জানতে পেরেছে, বিলটি এখনও রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়নি। রাষ্ট্রপতির কাছে কোনও বিল পাঠানোর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মাধ্যমে পাঠাতে হয়। আইন মন্ত্রক-সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলির নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়াই বর্তমানে চলছে বলে জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, বিলটির একটি অংশে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং সুদ-সহ তিন গুণ অর্থ আদায়ের মতো ব্যবস্থা রয়েছে। এই অংশে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। সে ক্ষেত্রে আসানসোলে পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাকেও উল্লেখ করেন তিনি। অন্য অংশটি, মূলত প্রতিরোধমূলক গ্রেফতার বা ‘প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর দাবি, বিলের কোথাও ‘গুন্ডা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমে ব্যবহৃত ভাষা থেকেই ‘গুন্ডা দমন বিল’ নামটি এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিলটির সাংবিধানিক বৈধতা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সংবিধানের সপ্তম তফসিলের ২৫৪(২) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, রাজ্যের ক্ষমতার আওতাতেই এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা যায়, মাদক মামলার যে ধারায় তিন বছরের কম শাস্তি রয়েছে, ওই ধারায় অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের ‘গুন্ডা’-র সংজ্ঞার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কোথাও ‘গুন্ডা’ বলে উল্লেখ নেই। আরও জানা যায়, কেন্দ্রের বক্তব্য, এই বিধান Prevention of Illicit Traffic in Narcotic Drugs and Psychotropic Substances Act, 1988 (PITNDPS Act)-এর অধীনে থাকা প্রতিরোধমূলক আটক ব্যবস্থার সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে। তাই বিলটি পুনরায় বিবেচনা জন‍্য ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এমন খবরকে ভুয়ো বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সংবিধানের সপ্তম তফসিলের ২৫৪(২) অনুচ্ছেদে আমাদের ক্ষমতার মধ্যেই এই বিল। মাদক মামলার ক্ষেত্রে অন্ধ্রপ্রদেশ ও কেরলামে সংশোধনী এনেছিল। সেজন্যই রাষ্ট্রপতি কাছে পাঠাতে হয়েছিল। আমরা এখানে তিন বছর পর্যন্ত যে সাজা সেটাকে জামিন অযোগ্য হিসেবেই এই বিলে রেখেছি।সেই জন্যই পাঠানো হয়েছে।”

এক যোগে সর্বভারতীয় মমতা তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএমকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “গুন্ডারাই টুইট করছে। গুন্ডারাই সাংবাদিক বৈঠক করছে। যাঁরা নিজেদের গুন্ডা মনে করেন, তাঁরাই এ সব কথা বলছেন। আসল কথা তাঁরা নিজেরাই জানেন, এই বিলে যে ধারা রয়েছে, তাতে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নিলে ক্ষমতায় অপব্যবহার করতে পারবেন না।”

এর পরেই ভুয়ো ও ভিত্তিহীন খবর ছড়িয়েছে বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “রাষ্ট্রপতির কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক হয়ে এই বিল পৌঁছোয়নি। ফলে এটা একেবারে ভিত্তিহীন, ভুয়ো। আমি আবার নিশ্চিত করছি, দু’টি অংশের বিল ছিল। একটা বাস্তবায়ন হয়েছে। অন্যটাও বাস্তবায়ন হবে।”


Share