Boat Capsized

জোয়ারের টানে হলদি নদীতে উল্টে গেল যাত্রীবোঝাই নৌকা, অল্পের জন্য রক্ষা ১৫ যাত্রীর

বিধায়কের বক্তব্য, নৌকায় যাতে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি যাত্রী না ওঠেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন। যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে।

নৌকাডুবির পর ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্থানীয়রা
নিজস্ব সংবাদদাতা, মহিষাদল
  • শেষ আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:০৭

সন্ধ্যার সময় যাত্রী নিয়ে নন্দীগ্রামের দিকে যাচ্ছিল নৌকা। আচমকাই জোয়ারের টানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে বিপত্তি। নৌকায় থাকা ১৫ জন যাত্রী জলে পড়ে গেছে তবে বড়সড় বিপদ ঘটেনি। পারের কাছেই দুর্ঘটনা হওয়ায় কোনওরকমে সাঁতরে সকলে নদীর পাড়ে উঠে আসেন। উদ্ধার করা হয়েছে নৌকায় থাকা বাইক ও সাইকেলও।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের তেরপেখিয়া ফেরিঘাট থেকে নন্দীগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল যাত্রিবাহী নৌকাটি। নৌকায় ছিলেন ১৫ জন যাত্রী। তাঁদের সঙ্গে ছিল কয়েকটি বাইক ও সাইকেল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফেরিঘাট ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই জোয়ারের জলের টানে নৌকাটি দুলতে শুরু করে। মাঝিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। আচমকাই নৌকা নদীতে উল্টে যায়। যাত্রীদের পাশাপাশি বাইক ও সাইকেলও জলে পড়ে যায়।

তবে দুর্ঘটনাস্থল তীর থেকে খুব বেশি দূরে না হওয়ায় বিপদ বুঝে জলে নেমে সাঁতরে পাড়ে ওঠেন যাত্রীরা। পরে বাইক ও সাইকেলগুলিও উদ্ধার করে ফেরিঘাটে নিয়ে আসা হয়।

দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা জানিয়ে যাত্রী শঙ্কর জানা বলেন, জোয়ারের সময় নৌকাটি ছেড়েছিল। একের পর এক ঢেউয়ের ধাক্কায় নৌকার সামনের অংশ জলে ডুবে যেতে শুরু করে। দ্রুত নৌকার ভিতরে জল ঢুকে পড়ে। এরপরই যাত্রীরা জলে পড়ে যান। অনেকের গলা পর্যন্ত জল উঠে গিয়েছিল বলে তিনি জানান। শেষ পর্যন্ত সকলেই সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। তেরপেখিয়া ফেরিঘাটে যান মহিষাদলের বিধায়ক সুভাষচন্দ্র পাঁজা। তিনি জানান, নৌকায় থাকা প্রত্যেক যাত্রীই সুস্থ রয়েছেন। পাশাপাশি ফেরিঘাটে নৌকা চলাচলের নিয়মকানুন নিয়েও নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।

বিধায়কের বক্তব্য, নৌকায় যাতে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি যাত্রী না ওঠেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন। যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে। ঘটনার পর থেকে ফেরিঘাটে নৌকা চলাচলের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


Share