Kunal Ghosh

উত্তরপাড়ায় কুণালের গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম-পাথর, ভাঙল কাচ, প্রতিবাদে ভবানী ভবনের সামনে বেলেঘাটার বিধায়ক, ঢুকতে বাধা

শনিবার উত্তরপাড়ায় কুণালের গাড়ি ঘিরে একদল ব‍্যক্তি বিক্ষোভ দেখায়। গাড়িতে ডিম ও পাথর ছোড়া হয় এবং পিছনের উইন্ডস্ক্রিন ভেঙে যায়। কুণালের অভিযোগ, রড ও শাবল দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয় এবং তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে বার করারও চেষ্টা করা হয়। হামলার ঘটনায় তাঁর কাঁধে আঘাত লাগে এবং ভাঙা কাচ শরীরে লাগে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

উত্তরপাড়ায় কুনাল ঘোষের গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তরপাড়া
  • শেষ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:৪০

শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় সর্বভারতীয় মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ইট-পাথর ও ডিম ছোড়ার পাশাপাশি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেছে কুণালের। পরে সেই ভাঙা গাড়ি নিয়েই কলকাতার ভবানী ভবনে পৌঁছোন তিনি। সেখানে গাড়ি নিয়ে ঢোকা তো দূরের কথা, নিজে ভবনের ভিতরে ঢুকতেও বাধার মুখে পড়েন বিধায়ক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়।

শনিবার উত্তরপাড়ায় কুণালের গাড়ি ঘিরে একদল ব‍্যক্তি বিক্ষোভ দেখায়। গাড়িতে ডিম ও পাথর ছোড়া হয় এবং পিছনের উইন্ডস্ক্রিন ভেঙে যায়। কুণালের অভিযোগ, রড ও শাবল দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয় এবং তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে বার করারও চেষ্টা করা হয়। হামলার ঘটনায় তাঁর কাঁধে আঘাত লাগে এবং ভাঙা কাচ শরীরে লাগে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

কুণাল এই ঘটনাকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, হামলার সময় এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশি উপস্থিতি ছিল না। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার পর চন্দননগর কমিশনারেটের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় ইমেলের মাধ্যমে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে এবং উত্তরপাড়া থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। বিজেপির বিরুদ্ধে কুনাল ঘোষ অভিযোগ করেছেন।

এর পর ভাঙা গাড়ি নিয়ে কলকাতার ভবানী ভবনে যান কুণাল। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল পুলিশকর্তাদের সামনে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি দেখানো এবং অভিযোগ জানানো। কিন্তু ভবানী ভবনের সামনে পৌঁছোনোর পর তাঁকে গাড়ি নিয়ে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। গাড়ি থেকে নেমে একা ভবনের ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তাঁকে বাধা দেওয়া হয়।

সেখানে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কুণালের বচসা হয়। আধিকারিকদের তরফে তাঁকে বলা হয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকায় তাঁকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। এরপর ভবনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে ঘটনাস্থলেই উত্তেজনা তৈরি হয়।

কুণালের দাবি, তিনি কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নয়, হামলার প্রমাণ হিসেবে নিজের ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি দেখাতে ভবানী ভবনে গিয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, হামলার সময় পুলিশ না থাকলে পরে অভিযোগ জানাতেও কেন তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হবে।

ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। হামলার জন্য কুণাল ও তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। অন্য দিকে, বিজেপির এক বিধায়ক ঘটনাটিকে জনরোষের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দাবি করেছেন।


Share