Abhishek Banarjee

২৬ দিন পর রাস্তায় নামছেন অভিষেক! আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে নেমে কি বাড়বে তৃণমূলের মনোবল, না ফের বিক্ষোভে চাপে নেতৃত্ব?

দলের একাংশের মতে, অভিষেককে ঘিরে হওয়া প্রতিবাদের কিছু অংশ পরিকল্পিত হলেও, অনেকটাই ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তৃণমূলের আশঙ্কা, আগাম কর্মসূচির ঘোষণা থাকায় বিজেপিও পাল্টা প্রস্তুতির সুযোগ পেয়ে যাবে। উপরন্তু, আগের মতো বিশাল নিরাপত্তাবলয়ও আর থাকছে না তাঁর সঙ্গে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ১০:৩৩

বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশ হয়েছে গত ৪ মে। নির্বাচনে ভরাডুবির পর প্রায় ২৬ দিন কালীঘাটেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশেষে শনিবার ফের রাস্তায় নামছেন তিনি। সোনারপুর দক্ষিণ ও বেলেঘাটার দুই ‘আক্রান্ত’ তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন অভিষেক। তবে তাঁর এই কর্মসূচি ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, এতে কি তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল বাড়বে, নাকি নতুন করে বিক্ষোভের মুখে পড়ে আরও অস্বস্তিতে পড়বে দল?

তৃণমূলের অন্দরের অনেকেই মনে করছেন, অভিষেকের রাস্তায় নামাকে ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা এখনই বলা কঠিন। তাঁর বাড়ির সামনে অতীতে যে বিক্ষোভ ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে, শনিবারও তেমন কিছু ঘটলে রাজনৈতিক বার্তার বদলে সেই ঘটনাই ফের চর্চার কেন্দ্রে চলে আসতে পারে। দলের একাংশের মতে, অভিষেককে ঘিরে হওয়া প্রতিবাদের কিছু অংশ পরিকল্পিত হলেও, অনেকটাই ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তৃণমূলের আশঙ্কা, আগাম কর্মসূচির ঘোষণা থাকায় বিজেপিও পাল্টা প্রস্তুতির সুযোগ পেয়ে যাবে। উপরন্তু, আগের মতো বিশাল নিরাপত্তাবলয়ও আর থাকছে না তাঁর সঙ্গে।

তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরই সক্রিয় রাজনীতিতে অভিষেকের উত্থান। ২০১৪ সাল থেকে তিনি সাংসদ। সময়ের সঙ্গে দলের ভিতরে যেমন তাঁর প্রভাব বেড়েছে, তেমনই বেড়েছিল নিরাপত্তাও। দীর্ঘদিন তিনি ‘জেড’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেয়েছেন। ১৯ গাড়ির কনভয়, গ্রিন করিডর, বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী সবই ছিল তাঁর সফরের অংশ। কিন্তু এখন তিনি শুধুমাত্র একজন সাংসদ। বিজেপি সরকার তাঁর নিরাপত্তা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। শনিবার তাঁর কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা নেমে আসতে পারে তিন বা চারটিতে। নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যাও থাকবে অনেক কম। ফলে এই প্রথম তাঁকে কার্যত বিরোধী রাজনীতির বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

এই আবহেই বৃহস্পতিবার অভিষেককে ই-মেল করে তৃণমূল মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দেন কলকাতার ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। আক্রান্ত কর্মীদের পাশে নেতৃত্ব কেন রাস্তায় নামছে না, সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন তিনি। শুক্রবার অরূপ বলেন, ‘‘রাস্তায় নামলে তো ভাল। অনেকে ওঁকে বলেন প্যারাস্যুটে আসা নেতা। উনি এ বার পুলিশ ছাড়া, সরকারি সমর্থন ছাড়া রাস্তায় নেমে প্রমাণ করে দিন, উনি প্যারাস্যুটে আসেননি। এটাই তো আগুনে পুড়ে খাঁটি সোনা হওয়ার সময়।’’

অন্য দিকে, দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়ে সাসপেন্ড হওয়া মুখপাত্র ঋজু দত্তের বক্তব্য, ‘‘নেতৃত্ব রাস্তায় নামছেন খুব ভাল কথা। কিন্তু দেরি হয়ে গেল না? ফল ঘোষণার পর থেকে লক্ষ লক্ষ কর্মী আক্রান্ত ছিলেন। বহু কর্মী ঘরছাড়া হয়েছেন। তাঁরা কোথাও বিজেপির নেতাদের সাহায্য নিয়ে, কোথাও হাতেপায়ে ধরে কোথাও বা জরিমানা দিয়ে ঘরে ফিরেছেন। সে দিন যদি নেতৃত্ব নামতেন, কর্মীরা মনোবল পেতেন।’’

বিজেপি অবশ্য বিষয়টিকে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবেই দেখছে, যদিও কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচী বলেন, ‘‘গণতন্ত্রে বিরোধী দল তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচি করবেন, এর মধ্যে নতুন করে বলার কী আছে। কিন্তু অভিষেকের বিরুদ্ধে মানুষের যে ক্ষোভ রয়েছে, তার প্রতিফলন হলে কী হবে বলতে পারব না।’’


Share