Hospital

শান্তিপুর হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ, যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা

মৃতের পরিবারের দাবি, সময়মতো সাহায্য পেলে রাজকুমারকে বাঁচানো সম্ভব ছিল।

শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ০৮:৫৩

নদীয়ার শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ফের চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, অসুস্থ অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর বাথরুমে গেলে দীর্ঘক্ষণ সে বাথরুমে পড়ে থাকে। কিন্তু কোনও চিকিৎসক, নার্স বা হাসপাতাল কর্মীর সাহায্য পাননি। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। মৃতদেহ আটকে রেখে তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। হাসপাতালে যান শান্তিপুরের বিজেপি বিধায়ক স্বপন কুমার দাসও।

মৃত যুবকের নাম রাজকুমার ঘোষ (৩৬)। বাড়ি শান্তিপুর থানার কাশ্যপপাড়া এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা তিনি অসুস্থ বোধ করেন। নিজেই হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে মাঝরাস্তায় সাইকেল থেকে পড়ে যান। খবর পেয়ে তাঁর মা সেখানে পৌঁছোয়। তাঁকে টোটো করে শান্তিপুর হাসপাতালে নিয়ে যান।

অভিযোগ, হাসপাতালে প্রথমে তাঁকে অবজারভেশনে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর রাজকুমার শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিছানা থেকে ওঠার ক্ষমতা ছিল না। পরিবারের দাবি, বিষয়টি চিকিৎসক ও নার্সদের জানানো হয়। কিন্তু তাঁরা কোনও সাহায্য করেননি। বরং স্যালাইন খুলে দিয়ে রোগীকে বাথরুমে নিয়ে যেতে বলা হয়।

এরপর রাজকুমারের মা ও দিদি কোনওরকমে তাঁকে ধরে বাথরুমে নিয়ে যান। সেখানে গিয়েই জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে তিনি লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের অভিযোগ, এরপর বহুবার ডাকাডাকি করলেও কোনও চিকিৎসক, নার্স বা হাসপাতাল কর্মী সাহায্যে এগিয়ে আসেননি। প্রায় আধ ঘণ্টা রাজকুমার বাথরুমেই পড়ে ছিলেন।

পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা এসে তাঁকে উদ্ধার করে। বেডে নিয়ে আসা হয়। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপরই হাসপাতালের বিরুদ্ধে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তোলেন। তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁদের দাবি, সময়মতো সাহায্য পেলে রাজকুমারকে বাঁচানো সম্ভব ছিল।

ঘটনার পর হাসপাতাল সুপারের কাছে পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মৃতের পরিবারের দাবি, দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ দিকে ঘটনার খবর পেয়ে শান্তিপুর থানার পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছোয়। পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে হাসপাতালে যান শান্তিপুরের বিজেপি বিধায়ক স্বপন কুমার দাস।


Share