Special Intensive Rivision

১০ সন্তানের বাবা-মায়ের নাম এক, বয়সের ফারাক মাত্র কয়েক মাস, এসআইআর-এর তথ্য যাচাই করতে গিয়ে চোখ কপালে উঠল নির্বাচন কমিশনের

বর্তমানে এসআইআর শুনানি পর্বের পর সেই তথ্যের ‘সুপার চেকিং’ করছে নির্বাচন কমিশন। এই ‘সুপার চেকিং’-এর সময় এক বাবা ও মা-এর ১০ সন্তান দেখে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে নির্বাচন কমিশনের। মাত্র এক মাসের ব্যবধানের এই হিসেব চিন্তায় ফেলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৫

রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। সেই শুনানিতে জমা দেওয়া নথিতে মিলল ‘আজব’ এক তথ্য। মেটিয়াবুরুজ বিধানসভা কেন্দ্রে উঠে এল এক বাবার ১০ সন্তানের কথা। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সন্তানের জন্ম, তা-ও মায়ের নাম একই। এমন তথ্য সামনে আসতেই চোখ কপালে উঠেছে নির্বাচন কমিশনের।

বর্তমানে এসআইআর শুনানি পর্বের পর সেই তথ্যের ‘সুপার চেকিং’ করছে নির্বাচন কমিশন। এই ‘সুপার চেকিং’-এর সময় এক বাবা ও মা-এর ১০ সন্তান দেখে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে নির্বাচন কমিশনের। মাত্র এক মাসের ব্যবধানের এই হিসেব চিন্তায় ফেলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে।

কমিশন সূত্রে খবর, এস‌আইআরের শুনানিতে জমা করা নথি অনুযায়ী, মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা মনোয়ারা বিবির ১৯৮৪ সালে প্রথম সন্তানের জন্ম দেন। তার ঠিক চার বছরের মধ্যেই তিনি দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেন। তৃতীয় সন্তানের জন্ম হয় ১৯৯০ সালে। এর পরেই তালগোল পেকেছে। কারণ এক বছরেরও কম সময়ে তিনি চতুর্থ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনে মনোয়ারা বিবির দাখিল করা নথি অনুযায়ী, ১৯৯০ সালের ৫ ডিসেম্বর পুত্র সন্তান শেখ ইরশাদের জন্ম দেন। তার ঠিক ২৬ দিন পর‌েই তিনি আবার‌ এক পুত্র সন্তানের মা হয়েছেন মনোয়ারা বিবি। নথি বলছে, ১৯৯০ সালের ৫ ডিসেম্বর শেখ ইরশাদের জন্মের পর ১ জানুয়ারি ১৯৯১ সালে শেখ ন‌ওশাদ নামে এক পুত্র সন্তানের মা হয়েছেন।

পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, একাধিক সন্তানের ক্ষেত্রেও তাঁদের জন্ম তারিখও একই রয়েছে। সেদিকেও নির্বাচন কমিশনের নজর রয়েছে। কমিশন সুত্রে আরও জানা গিয়েছে, ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি সরবিনা খাতুনের জন্ম দেওয়ার পরের বছর, ১৯৯৮ সালের‌ ১ জানুয়ারি আবার মা হয়েছেন মনোয়ারা বিবি। ১৯৯৮ সালে হাসিনা খাতুন নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন মনোয়ারা।

এ ছাড়াও, নির্বাচন কমিশনের নজরে রয়েছে ১০ সন্তানের বাবা শেখ আব্দুল‌ হাই। ১০ সন্তানের ভোটারের নথিতে কোথাও বাবার নাম এক থাকলেও, কোনও সন্তানের বাবার নামের পদবির ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। এতো বড় মাপের তথ্য সামনে আসতেই চোখ কপালে উঠেছে নির্বাচন কমিশনের। মেটিয়াবুরুজ বিধানসভায় তাঁদের এনুমারেশন ফর্মে পার্ট নম্বর ৫৩ দেওয়া রয়েছে। বাবা আব্দুল হাইয়ের সিরিয়াল নম্বরের জায়গায় ৫২১ লেখা রয়েছে।


Share