Ex-wife chaos

প্রাক্তন স্বামীর মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টায় শ্বশুরবাড়িতে হানা, টাকা-গয়না নিয়ে তাণ্ডবের অভিযোগে গণধোলাই

অভিযোগ, ২০১৯ সালে সন্তান ও স্বামীকে ছেড়ে অন্য এক যুবকের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান ওই মহিলা এবং পরবর্তীতে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসারে তাঁর আরও এক সন্তান রয়েছে। প্রতিবেশীদের দাবি, স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন গোপাল।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট
  • শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৫৫

প্রাক্তন স্বামীর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা থেকে বালুরঘাটে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছন এক মহিলা। অভিযোগ, মৃত ব্যবসায়ী গোপাল শীল (৪৫)-এর বৃদ্ধ মা-বাবাকে হেনস্থা করে আলমারি থেকে টাকা ও গয়না বের করেন তিনি। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের একাংশ তাঁকে ধরে মারধর করে বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ এসে মহিলাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। মৃতের বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। রবিবার থানায় গণডেপুটেশন দেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকার কাউন্সিলার পরিমল সরকার জানান, সাত বছর পর প্রাক্তন স্বামীর বাড়িতে ঢুকে টাকা-গয়না নেওয়ার চেষ্টা প্রতিবেশীরা মেনে নিতে পারেননি। তাঁরা বাধা দেন এবং পুলিশের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন। জেলার পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল জানান,  ‘অভিযোগ হয়েছে। সবটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১২ সালে পাশের পাড়ার এক তরুণীকে প্রেম করে বিয়ে করেন বালুরঘাট পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোপাল শীল। দু’বছর পর তাঁদের এক পুত্রসন্তান জন্মায়। অভিযোগ, ২০১৯ সালে সন্তান ও স্বামীকে ছেড়ে অন্য এক যুবকের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান ওই মহিলা এবং পরবর্তীতে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসারে তাঁর আরও এক সন্তান রয়েছে। প্রতিবেশীদের দাবি, স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন গোপাল। একবার ফিরেও এলেও পরে আবার চলে যান তিনি। তারপর আর বিয়ে করেননি গোপাল। সন্তানকে নিয়ে একাই থাকতেন।

গত শুক্রবার তারাপীঠ-এ পুজো দিতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় গোপালের। শনিবার গভীর রাতে তাঁর দেহ সৎকার করা হয়। রবিবার হঠাৎই গোপালের বাড়িতে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী হাজির হন। এক প্রতিবেশীর দাবি, তিনি ঘরে ঢুকে ডিভোর্স হয়নি বলে দাবি করেন এবং সোনার গয়না ও টাকা নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে আটকান। পরে পুলিশ এসে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।


Share