Mysterious Death

আবাসিক স্কুলের ভেন্টিলেটর দিয়ে পালাতে গিয়ে বিপত্তি, বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে মৃত্যু দশম শ্রেণির এক ছাত্রের

হস্টেল সূত্রে খবর, সোমবার গভীর রাতে বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল ওই ছাত্র। সেই সময় জামিস পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর
  • শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৩৬

গঙ্গারামপুরে আবাসিক স্কুলে দুর্ঘটনা। সোমবার মধ্যরাতে শৌচাগারের ভেন্টিলেটর দিয়ে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল দশম শ্রেণির এক ছাত্রের। মৃতের নাম জামিস আলবাক্স হোসেন (১৫)। মৃত তপন ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তাড়ইট এলাকার বাসিন্দা এবং গঙ্গারামপুর ব্লকের জাহাঙ্গীরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাগানবাড়ি এলাকার একটি আবাসিক স্কুলে পড়ত। তার বাবা আক্তার হোসেন পেশায় নিরাপত্তারক্ষী। পরিবারের দুই সন্তানই ওই হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বাড়ি থেকে হোস্টেলে ফিরে গিয়েছিল জামিস। সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। আগামী শুক্রবার মাসির ছেলের বিয়েতে যাওয়ার কথাও ছিল। তাই হঠাৎ করে পালানোর মতো কোনও কারণ ছিল না বলেই দাবি পরিবারের।
হস্টেল সূত্রে খবর, সোমবার গভীর রাতে বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল ওই ছাত্র। সেই সময় জামিস পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হয়। পরে ভেন্টিলেটর থেকে নিচে পড়ে যায়। উদ্ধার করে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ রক্ষা করা যায়নি।

ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছে পরিবার। তাদের দাবি, রাত প্রায় ১২টার সময় ঘটনা ঘটলেও তাদের জানানো হয় রাত দু’টো নাগাদ। কেন এত দেরিতে খবর দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি, এত বড় ভেন্টিলেটর খোলা থাকা সত্ত্বেও তা বন্ধ করার কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ।

মৃতের কাকা আনারুল হোসেন বলেন,  'প্রথমে হস্টেল কর্তৃপক্ষ ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি। এখানে অত্যাচার করা হত কি না তা বলা মুশকিল। হস্টেলের সিসিটিভি ক্যামেরা বিকল রয়েছে। তবে কিছু তো হস্টেলে হতো, তা না হলে কেন ছেলে এভাবে পালানোর চেষ্টা করবে! প্রকৃত ঘটনা কি তা সামনে আসুক। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।'

অন্যদিকে আবাসিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক রতন রায় জানিয়েছেন, সোমবার রাত প্রায় বারোটার সময় তারা জানতে পারেন ওই ছাত্রটি তার রুমে নেই। খোঁজাখুঁজির পর দেখা যায়, বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে বের হতে গিয়ে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার পর তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন, তাই সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা মাথায় আসেনি। পরিবার ও থানায় খবর দেওয়া হয়েছিল।

এই ঘটনায় মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে গঙ্গারামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভতোষ সরকার বলেন, 'প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে শৌচাগারের ঘুলঘুলি দিয়ে বেরোতে গিয়েই এই ঘটনা ঘটেছে৷ এ নিয়ে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। সবটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'


Share