Duttabad Murder Case

‘আমাদের ধারণা তিনি অন‍্য রাজ‍্যে পালিয়ে গিয়েছেন,’ আদালতে দাবি সরকারি আইনজীবীর, খোঁজ নেই দত্তাবাদকান্ডের মূল অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনের, জারি গ্রেফতারি পরোয়ানা

গত ৩০ অক্টোবর দত্তাবাদে উদ্ধার হয় স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ। ব্যবসায়ীকে অপহরণ-খুনের অভিযোগে নাম জড়ায় জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের। ইতিমধ্যে এক তৃণমূল নেতা-সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন প্রশান্ত। যদিও সেই মামলা এখনও লিস্টিং হয়নি।

বিডিও প্রশান্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল আদালত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:০৫

দত্তাবাদে স্বর্ণব‍্যবসায়ী স্বপন কামিল‍্যা খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে এফআইআরে নাম রয়েছে রাজগঞ্জের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক প্রশান্ত বর্মনের। তিনি অন‍্য রাজ‍্যে পালিয়ে গিয়েছেন! এমনই আদালতে দাবি করল সরকারি আইনজীবী। ৭২ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও প্রশান্ত আত্মসমর্পন করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে দিল বিধাননগর আদালত।

দত্তাবাদে স্বর্ণব‍্যবসায়ী খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছে রাজগঞ্জের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক প্রশান্ত বর্মনের। খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তিনি। তাঁকে বারাসত আদালত আগাম জামিন মঞ্জুর করলেও তা চ‍্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগরের পুলিশ। বিচারপতি তির্থঙ্কর ঘোষ জামিন খারিজ করে দিয়ে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন। বারাসত আদালতে এমন নির্দেশ কীভাবে দিতে পারে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন বিচারপতি ঘোষ।

কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত ৮টার সময় হাই কোর্টের দেওয়া সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। তা-ও বিডিও প্রশান্ত বর্মন আত্মসমর্পণ করেননি। আর এর পরেই আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার আবেদন জানায় পুলিশ। আদালতে সরকারি আইনজীবী জানান, এই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মন। আমরা তদন্তের মাঝামাঝি অবস্থায় রয়েছি। তাই প্রশান্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন রয়েছে। এর পরেই তিনি আদালতকে জানান, আমাদের ধারণা তিনি অন‍্য রাজ‍্যে পালিয়ে গিয়েছেন। তাই প্রশান্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হোক। শুক্রবার বিধাননগর আদালতে বিচারক অভিজিৎ পাকরিন পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করেছেন। খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা।

অন‍্যদিকে ২২ ডিসেম্বর যেদিন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তির্থঙ্কর ঘোষ যখন তাঁকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিচ্ছেন, সেদিন তিনি দফতরে এসেছিলেন। স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, গত সোমবার তিনি দফতরে আসেন। খুবই অল্প সময়ের জন্যই দফতরে ছিলেন। তার পর থেকে তাঁর আর খোঁজ নেই। এমন পরিস্থিতিতে ওই ব্লকে এসআইআর-এর কাজ নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, গত ২২ ডিসেম্বর শেষ বার নিজের দফতরে এসেছিলেন। সেই দিনই মিনিট আটেক দফতরে ছিলেন। তার পরে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। তার পর আজ শুক্রবার পর্যন্ত তিনি ব্লক উন্নয়ন দফতরে আসেননি। স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, তাঁরা বিভিন্ন কাজ নিয়ে বিডিও’র দফতরে যাচ্ছেন। কিন্তু সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় রোজই দফতরে যাচ্ছেন। কিন্তু বিডিও অফিসের গেলেও বলে দেওয়া হচ্ছে, তিনি আসেননি। এমন পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয়েরা।

উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবর দত্তাবাদে উদ্ধার হয় স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ। ব্যবসায়ীকে অপহরণ-খুনের অভিযোগে নাম জড়ায় জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের। ইতিমধ্যে এক তৃণমূল নেতা-সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন প্রশান্ত। যদিও সেই মামলা এখনও লিস্টিং হয়নি। তার আগেই জারি হয়ে গিয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। 


Share