Murder Case

ধূপগুড়িতে স্বামীর হাতে খুন স্ত্রী, ধারালো অস্ত্র হাতে থানায় হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ স্বামীর,

পুলিশের জেরায় সে স্ত্রীকে খুনের কথা স্বীকার করে। অভিযুক্ত স্বামী শ্রীকান্ত রায়কে গ্রেফতার করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৯

রক্তে ভেজা শরীর, হাতে ধারালো অস্ত্র—এই অবস্থাতেই প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে থানার সামনে এসে দাঁড়ায় এক যুবক। তাকে দেখে আতঙ্কে থমকে যান রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ। থানায় ঢুকে সরাসরি পুলিশের সামনে স্বীকারোক্তি—নিজের স্ত্রীকে খুন করে আত্মসমর্পণ করতে এসেছে সে। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। শিউরে ওঠার মতো এই ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম সোমা রায়। অভিযুক্ত স্বামী শ্রীকান্ত রায়কে গ্রেফতার করেছে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়ে অভিযুক্তের দেখানো জায়গা থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধূপগুড়ির রায়পাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শ্রীকান্ত ও সোমার বিয়ে হয়েছিল কয়েক বছর আগে। সম্প্রতি শ্রীকান্ত জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী সোমা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। অভিযোগ, এলাকারই বাসিন্দা চিরঞ্জিত নামে এক যুবকের সঙ্গে সোমার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় সালিশিসভা বসে। সেই সালিশিতেই শ্রীকান্ত নিজের স্ত্রীকে চিরঞ্জিতের হাতে তুলে দেন।

সালিশির পর সোমা চিরঞ্জিতের বাড়িতেই থাকতে শুরু করেন। কিন্তু শনিবার সকালে সেখানেই ঘটে বিপত্তি। অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র হাতে আচমকাই শ্রীকান্ত চিরঞ্জিতের বাড়িতে ঢুকে সোমার উপর এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করেন। চিৎকার শুনে চিরঞ্জিতের মা ছুটে আসে। বাধা দিতে গেলে তাঁর দিকেও তেড়ে যান অভিযুক্ত। ঘটনাস্থলেই সোমার মৃত্যু হয়। খুনের পর রক্তমাখা অবস্থায় শ্রীকান্ত ধারালো অস্ত্র হাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। প্রায় এক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে যাওয়ার পর টোটো ধরে ধূপগুড়ি থানায় পৌঁছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত খুনের কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কী কারণে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড- প্রতিহিংসা না কি অন্য কোনও কারণ, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


Share