Gourbanga University

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্টার বদল ঘিরে বিতর্ক, উপাচার্যকে ঘিরে বিক্ষোভে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ মার্চ লাইব্রেরিয়ান বিশ্বজিৎ দাস-কে অস্থায়ীভাবে রেজিস্টারের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যার মেয়াদ ছিল ২০২৬ সালের ২২ মার্চ পর্যন্ত। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি ব্যক্তিগত কারণে ছুটির আবেদন করেন।

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৪

মালদহের গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যকে ঘিরে অধ্যাপকদের বিক্ষোভ। তা নিয়ে উত্তেজনা ছড়াল ক্যাম্পাসে। রেজিস্টার পদে পরিবর্তন এবং তা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ মার্চ লাইব্রেরিয়ান বিশ্বজিৎ দাস-কে অস্থায়ী ভাবে রেজিস্টারের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যার মেয়াদ ছিল ২০২৬ সালের ২২ মার্চ পর্যন্ত। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি ব্যক্তিগত কারণে ছুটির আবেদন করেন। অভিযোগ, এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি উপাচার্যের দফতর থেকে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির নোটিশ পাঠানো হয়, যদিও সেই নোটিশে কারণ উল্লেখ ছিল না।

পরবর্তীতে রেজিস্টারের দায়িত্ব দেওয়া হয় দর্শন বিভাগের অধ্যাপিকা জ্যোৎস্না সাহা-কে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অধ্যাপকদের একাংশ উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য-কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। উপাচার্যের সঙ্গে তাঁদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকও হয়। অভিযোগ, বৈঠকের মধ্যেই উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় এবং কয়েকজন অধ্যাপক আঙুল তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

লাইব্রেরিয়ান সাধন সাহা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না বলেই তাঁরা উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যান। তাঁর দাবি, রেজিস্টারের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক হওয়া উচিত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটিউট এবং ইউজিসি-র নিয়ম মেনেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

অন্যদিকে বিশ্বজিৎ দাস বলেন, তিনি নিয়ম মেনেই ছুটির আবেদন করেছিলেন এবং তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অপসারণের কারণ লিখিতভাবে জানানো হয়নি এবং দীর্ঘ সময় তিনি কোনও অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধাও নেননি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি-র দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র অম্লান ভাদুড়ী অভিযোগ করেন, শাসক দলের ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও দুর্নীতির জেরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজকতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে পড়ুয়াদের উপর।

পাল্টা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা মুখপাত্র শুভময় বসু দাবি করেন, কিছু কুচক্রী মহল বিরোধীদের মদতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। শিক্ষা দফতর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতেই বর্তমান উপাচার্যকে পাঠিয়েছে এবং তিনি ইতিবাচক উদ্যোগ নিচ্ছেন বলেও তাঁর বক্তব্য।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে এই বিতর্কে এখনও বিস্তারিত সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পড়ুয়াদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।


Share