Special Intensive Revision

ভোটারের সরকারি নথির বদলে আপলোড হয়েছে খবরের কাগজ! কাউকে রেয়াত নয়, কড়া বার্তা নির্বাচন কমিশনের

আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটারের নথি আপলোড করার কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। না হলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও, এই সংক্রান্ত রিপোর্ট পাঁচ বছরের সংরক্ষণ করতে হবে।

জেলাশাসকদের কড়া বার্তা নির্বাচন কমিশনের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৯

রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর শুনানি শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চলছে ঝাড়াই-বাছাই পর্ব। এ বার সামনে এল এক আজব কাণ্ড। জানা গিয়েছে, শুনানিতে আসা ভোটারের নির্দিষ্ট করে দেওয়া নথির বদলে কমিশনের সাইটে আপলোড হয়ে গিয়েছে ‘খবরের কাগজ’, ‍’সাদা পাতা’। আর তা দেখার পরেই বেজায় ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশন।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ সম্পূর্ণ বেঞ্চ রাজ‍্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, শুনানিতে ডাকা ভোটারদের যে সমস্ত নথি ইআরও এবং ডিইও-রা যে সমস্ত নথি যাচাই করেছে তাতে গাফিলতি রয়েছে। কমিশনের নজরে এসেছে, সেখানে খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন আপলোড হয়ে গিয়েছে। আবার কোথাও ‘সাদা পাতা’ কমিশনের ওয়েবসাইটে চলে এসেছে। এমনকী, নথির ঝাপসা ছবি আপলোড হয়েছে। তা কমিশনের নজরে এসেছে। উদাহরণ হিসেবে ১০ থেকে ২০টি এমন ঘটনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আপলোড করা হয়েছে প‍্যানকার্ডও। যা কমিশনের ঠিক করে দেওয়া নথির বাইরে রাখা হয়েছে।

কমিশন মনে করছে, সংখ‍্যটা ১০ বা ২০ নয়। এই সংখ্যাটা আরও বেশি। একেই হাতে সময় কম। তার ওপর এই ভাবে নথি আপলোড। সেটা কী করে নির্মূল করা যায় তা নিয়ে চিন্তায় ফেলেছে কমিশনকে। কমিশনের সন্দেহ, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের এমন ভুল অনভিপ্রেত। যা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। যাচাই না করেই এমন ভোটারকে কী ভাবে ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হল তা নিয়েও ভর্ৎসিত হতে হয়েছে কিছু জেলার নির্বাচনী আধিকারিকদের।

অন‍্যদিকে, কোনও কোনও ইআরও-রাও এমন কাজের জন‍্য কমিশনের নজরে এসেছে। কমিশন মনে করছে তাঁরা ইচ্ছাকৃত ভাবে এই কাজ করছে। তাঁরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অমান্য করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কারা এমন কাজ করেছেন, তাঁদের নির্বাচন সদনের নজরে আনতে বলা হয়েছে। ডিইও, ইআরও এবং এইআরও-রা যাঁদের কাজের গাফিলতি সামনে আসছে তা নির্বাচন কমিশনের নজরে আনতে হবে। সেই কাজ রোল অবজার্ভারেরা দায়িত্ব নিয়ে করতে বলেছে নির্বাচন সদন।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটারের নথি আপলোড করার কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। না হলে শাস্তির খাঁড়া নেমে আসবে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও, এই সংক্রান্ত রিপোর্ট পাঁচ বছরের সংরক্ষণ করতে হবে। যাতে পাঁচ বছর পরেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কমিশন সূত্রের খবর, এ দিন বৈঠকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে কার্যত ভর্ৎসনা করেছেন নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর বিরুদ্ধে জাল নথি আপলোড করার ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদহ, উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকদের একই অভিযোগ রয়েছে। কমিশন সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, ভোটারের জাল নথি কীভাবে আপলোড হয়ে গেল, তা কেন যাচাই করা হল না, তা নিয়েও কমিশনের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে ডিইও-দের।


Share