Illegal stalls Presist

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে বেআইনি দোকানের দাপট, উচ্ছেদের পরও ফের রমরমা ব্যবসা

রাতে থাকার জন্য প্লাস্টিকের শিট থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাবার সবই মিলছে এসব দোকানে। কলেজে নিজস্ব ক্যান্টিন থাকা সত্ত্বেও মেডিসিন ওয়ার্ডের সামনে একটি রেস্তোরাঁ চলছে। কে অনুমতি দিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আউটডোরের কাছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর একটি হোটেলও চলছে, আর সম্প্রতি এমার্জেন্সির সামনে নতুন ক্যান্টিন খুলেছে।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ
নিজস্ব সংবাদদাতা, দার্জিলিং
  • শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১০

রোগী কল্যাণ সমিতির কড়া অবস্থান ও পুলিশের বাজেয়াপ্ত অভিযান সত্ত্বেও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে বেআইনি দোকানপাটের রমরমা থামছে না। গাইনি বিভাগের সামনে শুধু খাবারের দোকানই নয়, নবজাতকের প্রয়োজনীয় তোয়ালে, স্নানের প্লাস্টিকের মগ-সহ নানা সামগ্রীও বিক্রি হচ্ছে। একই চিত্র মানসিক রোগের চিকিৎসাকেন্দ্রের পাশেও।

রাতে থাকার জন্য প্লাস্টিকের শিট থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাবার সবই মিলছে এসব দোকানে। কলেজে নিজস্ব ক্যান্টিন থাকা সত্ত্বেও মেডিসিন ওয়ার্ডের সামনে একটি রেস্তোরাঁ চলছে। কে অনুমতি দিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আউটডোরের কাছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর একটি হোটেলও চলছে, আর সম্প্রতি এমার্জেন্সির সামনে নতুন ক্যান্টিন খুলেছে। যদিও হাসপাতালের বাইরে প্রচুর খাবারের দোকান, ডেন্টাল কলেজ লাগোয়া বাজার এবং সীমানার উল্টো দিকেও সারি সারি দোকান রয়েছে। বারবার উচ্ছেদের পরেও কীভাবে নতুন করে বেআইনি দোকান গজিয়ে উঠছে, তা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ও গৌতম দেব বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রতি উচ্ছেদ করা হলেও ফের দোকান বসার খবর মিলছে এবং মেডিকেল কলেজ চত্বরে এ ধরনের বেআইনি ব্যবসা বরদাস্ত করা হবে না।

গাইনি বিভাগের সামনে দোকান চালানো উদয় নাথ বলেন, শুধু সরিয়ে দিলে হবে না, তাঁদের জীবিকার প্রশ্ন জড়িয়ে আছে। আর এক বিক্রেতা শ্যামলী পাল দাবি করেন, এতে রোগীর পরিবারের সুবিধাই হচ্ছে, কারণ ছোটখাটো জিনিসের জন্য বাইরে যেতে হয় না।

তবে নিরাপত্তা কর্মীদের উদ্বেগ দালালচক্র নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, এই বেআইনি দোকানগুলিকে ঘিরেই দালালদের দৌরাত্ম্য বাড়ে। রেস্তোরাঁ বা ছোট দোকানের সামনে বসে তারা রোগীর পরিজনদের টার্গেট করে রক্ত জোগাড় বা সিটি স্ক্যানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে টাকা আদায় করে। অনেকেই প্রতারিত হন, আর সমস্যা বুঝে ওঠার আগেই দালালরা উধাও হয়ে যায়।

কলেজের অধ্যক্ষ সঞ্জয় মল্লিক জানান, রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান বিষয়টি অবগত আছেন এবং তাঁরাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।


Share