Calcutta High Court

পাওনা টাকা না মেটালেই প্রতারণা নয়, বড় বার্তা কলকাতা হাই কোর্টের

আইনজীবীদের একাংশের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে বহু ফৌজদারি মামলা খারিজের ক্ষেত্রে নজির হতে পারে। জমি, সম্পত্তি বা ব্যবসায়িক শর্তভঙ্গের মতো বিষয়ে যেখানে দেওয়ানি মামলা প্রযোজ্য, সেখানে অনেক সময় অযথা ফৌজদারি মামলা করা হয় এমন অভিযোগও উঠে আসে।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৫৪

শর্ত মেনে পাওনা টাকা না মেটানো মানেই প্রতারণা নয় এই পর্যবেক্ষণে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর খারিজ করল কলকাতা হাই কোর্ট। রায়ে বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্ত স্পষ্ট করেন, ব্যবসায়িক লেনদেনে বকেয়া বা চুক্তিভঙ্গের অভিযোগকে ফৌজদারি প্রতারণা বা বিশ্বাসভঙ্গ হিসেবে দেখা যায় না। প্রাপ্য আদায়ে চাপ তৈরি করতে ফৌজদারি আইনের অপব্যবহারও গ্রহণযোগ্য নয় বলে আদালত জানিয়েছে।

আইনজীবীদের একাংশের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে বহু ফৌজদারি মামলা খারিজের ক্ষেত্রে নজির হতে পারে। জমি, সম্পত্তি বা ব্যবসায়িক শর্তভঙ্গের মতো বিষয়ে যেখানে দেওয়ানি মামলা প্রযোজ্য, সেখানে অনেক সময় অযথা ফৌজদারি মামলা করা হয় এমন অভিযোগও উঠে আসে। এতে পুলিশ ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষই হয়রানির শিকার হন এবং প্রকৃত ফৌজদারি মামলার বিচার বিলম্বিত হয় বলেও মত তাঁদের।

এই মামলায় আরামবাগের মুরগির খাদ্য ব্যবসায়ী প্রদ্যোৎ সামন্ত তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আর্জি জানান। আদালত দেখে যে লেনদেনের শুরু থেকেই প্রতারণার অসৎ উদ্দেশ্য ছিল এমন কোনও প্রমাণ নেই। ফলে প্রতারণা বা বিশ্বাসভঙ্গের ধারা প্রয়োগযোগ্য নয়।

নথি অনুযায়ী, দু’পক্ষের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল এবং নগদ, চেক ও ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে লেনদেন চলত। ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত এক কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়, যার মধ্যে ৭৫ লক্ষ টাকার বেশি পরিশোধ করা হয়। ২০১৬ সালের জুলাই পর্যন্ত লেনদেন চললেও প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা বকেয়া থাকার অভিযোগে আরামবাগ থানায় ফৌজদারি মামলা দায়ের হয় এবং পুলিশ চার্জশিট জমা দেয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, কেবল বকেয়া থাকলেই তা ইচ্ছাকৃত প্রতারণা প্রমাণ করে না। বিষয়টি মূলত দেওয়ানি প্রকৃতির, তাই ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া চালানো আইনের অপব্যবহার। এই যুক্তিতেই এফআইআর ও সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি মামলা খারিজ করা হয়েছে।


Share