Assault

মালদহে মায়ের উপর নৃশংসতা! গরম খুন্তির ছেঁকা থেকে লাঠিপেটা, পলাতক অভিযুক্ত ছেলে-বৌমা

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে ছেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন ওই বাড়িতে এসে ওঠার পর থেকেই অশান্তি শুরু হয়। অভিযোগ, শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজের বাড়িতে রাখার পরিকল্পনা করে মায়ের উপর চাপ বাড়াতে থাকে ছেলে-বৌমা।

ইংরেজবাজার থানা
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৪

মাথার চুল কেটে দেওয়া থেকে শুরু করে গরম খুন্তির ছেঁকা নানা ভাবে দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার সহ্য করছিলেন এক প্রৌঢ়া। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে লাঠিপেটা করে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় ছেলে ও বৌমা। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনায় ছেলে বিক্রম মল্লিক, বৌমা উত্তরা-সহ চার জনের বিরুদ্ধে আহত ফুলকুমারী মল্লিক ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর বাড়ি ইংরেজবাজার থানার নয়ঘর কলোনি বাগানপাড়া এলাকায়। স্বামী পরিমল মল্লিক ভিন রাজ্যে কাজ করেন। পৈত্রিক বাড়িতেই ছেলে-বৌমাকে নিয়ে থাকতেন তিনি।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে ছেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন ওই বাড়িতে এসে ওঠার পর থেকেই অশান্তি শুরু হয়। অভিযোগ, শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজের বাড়িতে রাখার পরিকল্পনা করে মায়ের উপর চাপ বাড়াতে থাকে ছেলে-বৌমা। মারধর, গরম জল ঢেলে দেওয়া-সহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন চলছিল বলে অভিযোগ।

নির্যাতিতার বোন প্রতিমা শেঠ জানান, গত দু’দিন অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। গরম খুন্তির ছেঁকা, গরম জল ছিটানো, কিল-চড়-ঘুসির পাশাপাশি বৃহস্পতিবার রাতে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। সেই সময় ছেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজনও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি তাঁর। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি গিয়ে দিদিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আক্রান্ত প্রৌঢ়ার দাবি, সম্পত্তির দখল নিয়ে শ্বশুর-শাশুড়িকে রাখতে চাইছিল ছেলে, সেই কারণেই তাঁকে বাড়ি ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তিনি জানান, স্বামী বাইরে থাকায় বিষয়টি জানতেন না। আহত পুলিশের কাছে নিজের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছেন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত বিক্রম ও উত্তরা পাল্টা দাবি করেছেন, তাঁরাই হামলার শিকার হয়েছেন এবং তাঁদের দিকে ইট ছোড়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর চার জনই পলাতক। প্রৌঢ়া সুস্থ হলে তাঁকে বাড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।


Share