TMC Political Crisis

নতুন দলে যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদেরা, স্পিকারের সঙ্গে দেখা করলেন, রাজ‍্যে খোলা হবে দলীয় কার্যালয়ও

নতুন দলে যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা। রবিবার সন্ধ্যায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে এমনটাই জানিয়ে এলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের ২০ জন সাংসদ।

স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ০৮:১৭

নতুন দলেই যোগ দিতে চলেছেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদেরা। ২০ জন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ রবিবার সন্ধ্যায় ৯ নম্বর আকবর রোডে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাড়িতে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা স্পিকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন।

নতুন দলটির নাম ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)’। এই রাজনৈতিক দলটি ত্রিপুরায় রেজিস্টার করা রয়েছে। এই দলটির পশ্চিমবঙ্গে কোনও অস্থিত্ব নেই। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বিদ্রোহী সাংসদদেরা এসিপিআই-তে যোগ দিলেও তাঁরা এনডিএকে সমর্থন করবে। ২০২২ সালে এই রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ২০১৩ সালের ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে দু’টি আসন থেকে প্রার্থীরা লড়েছিলেন। জানা গিয়েছে ত্রিপুরার ধলাই জেলার চৌমানু এবং উনকোটি জেলার কৈলাসহর কেন্দ্র থেকে তাঁরা লড়েছিলেন। দু’টি আসনে তাঁরা লড়াই করে ৮২২টি ভোট পেয়েছিলেন। তবে এই দলটাই কেন বেছে নেওয়া হল তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের সংখ্যা ২০ হয়েছে। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দিল্লিতে যাওয়ার আগে ২২ জন সাংসদের কথা বলেছিলেন। আরও দু’জন সাংসদ কে তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। ইতিমধ্যেই সুখেন্দুশেখর রায় এবং সুস্মিতা দেব— এই দু’জন রাজ‍্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূল ছেড়ে দিয়েছেন।

এ দিন সন্ধ্যায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই বিদ্রোহী সাংসদেরা স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরে বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই চিঠি লোকসভার স্পিকারের কাছে জমা দিয়ে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গেও এই ‘অস্তিত্বহীন’ দলের কার্যালয় খোলা হবে বলেও জানান অরূপ চক্রবর্তী।

প্রথমে শোনা গিয়েছিল তৃণমূলের বিদ্রোহীরা আলাদা ব্লক গঠন করবেন। দলীয় প্রতীকের জন‍্য তাঁরা লোকসভার স্পিকারের কাছে আবেদন জানাবেন। সংসদে আসন বদলে দেওয়ারও আবেদন জানানোর কথাও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু সেসব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে নতুন দলে তাঁরা যোগ দিতে চলেছেন। ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিয়েছেন বলেও সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ঘটনাচক্রে সাগরিকা এবং কীর্তি যখন ২০ আকবর রোডের ওম বিড়লার বাড়িতে যান তখনই বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদেরা ৯ নম্বর মতিলাল নেহরু মার্গের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে গিয়ে বৈঠক করেন।

তৃণমূল ভাঙনের আগে রবিবার লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন পাতার চিঠিতে অভিষেক লিখেছেন, তৃণমূল একটি অখন্ড রাজনৈতিক দল। আইনত তৃণমূল একটাই। চিঠিতে অভিষেক লিখেছেন, “তৃণমূল একটি অখণ্ড রাজনৈতিক দল। লোকসভায় যে সংসদীয় দল রয়েছে, সেটিও মূল রাজনৈতিক দলের উপরেই নির্ভরশীল এবং তা ওই রাজনৈতিক দলেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আইনত তৃণমূল একটিই। একইভাবে একজন করেই লোকসভার দলনেতা এবং এক হুইপ আছেন। তাঁরা সকলেই মূল রাজনৈতিক দল এবং তার সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে নিজ নিজ পদে থাকেন। সাংসদেরা কখনও একই দলের মধ্যে নিজেদের ইচ্ছামতো কোনও সমান্তরাল ‘গোষ্ঠী’ তৈরি করে লোকসভায় পৃথক স্বীকৃতির দাবি করতে পারেন না।”


Share