Kakali Ghosh Dastidar

সুদীপের যোগদানের ইঙ্গিত, ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে আরও দুই সাংসদ! সোমবার স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি কাকলির

কাকলি জানান, ওই ২০ জনের পাশাপাশি আরও দু’জন সাংসদ শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন। তবে তাঁদের নাম আপাতত গোপন রাখা হয়েছে।

কাকলি ঘোষদস্তিদার
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ০১:৩১

‘বিদ্রোহী’ শিবিরে সাংসদের সংখ্যা ২০ নয়, বেড়ে ২২ হয়েছে। এই দাবিই করলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। রবিবার সকালে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় তিনি জানান, সেখানে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। কাকলির দাবি, সোমবার তাঁদের সঙ্গে দেখা করবেন স্পিকার।

এ দিকে, সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়েরও ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে। এর আগে ১৯ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের স্বাক্ষর-সহ কয়েকটি নথি প্রকাশ্যে আসে। কাকলি জানান, ওই ২০ জনের পাশাপাশি আরও দু’জন সাংসদ শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন। তবে তাঁদের নাম আপাতত গোপন রাখা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের পরই সেই নাম প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিদ্রোহী শিবিরের সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে কলকাতায় বৈঠকের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা দিল্লিতে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জল্পনা ছিল। তবে দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কারণে তিনি দিল্লি যাচ্ছেন না বলে জানা গিয়েছে।

ইতিমধ্যেই ১৯ জন তৃণমূল সাংসদের স্বাক্ষর-সহ একটি নথি প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে পৃথক ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। ওই তালিকায় রয়েছেন শতাব্দী রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব, জুন মালিয়া, ইউসুফ পাঠান, মালা রায়-সহ একাধিক সাংসদ। পরে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সায়নী ঘোষও সেই নথিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে দাবি বিদ্রোহী শিবিরের।

এ দিকে শনিবার দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদের সঙ্গে একই গাড়িতে দেখা যায় কলকাতা উত্তরের সাংসদকে। এর পর থেকেই জল্পনা শুরু হয় যে তিনিও বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন।

লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের ইঙ্গিত মিলছিল। বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, তাঁরা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন করতে ইচ্ছুক। সেই আবহেই স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক এবং পৃথক ব্লক গঠনের উদ্যোগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তাৎপর্য তৈরি করেছে।

বর্তমানে যাঁদের নাম বিদ্রোহী শিবিরের তালিকায় নেই, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, শত্রুঘ্ন সিন্‌হা, প্রতিমা মণ্ডল ও সাজদা আহমেদ। কাকলির দাবি সত্যি হলে এই আট জনের মধ্য থেকেই আরও দুই সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।


Share