Liqour Scam

পরিবহণ খরচের নামে তিন বছরে ৩০০ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ! তদন্ত চেয়ে আবগারি দফতরের দ্বারস্থ সংগঠন

সংগঠনের দাবি, খুচরো ব্যবসায়ীদের বিয়ার সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতি বোতল বা ক্যানের জন্য ১০ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত পরিবহণ খরচ দিতে বাধ্য করা হত।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ০৫:৩৯

পরিবহণ খরচের নামে গত তিন বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মদ ব্যবসায়ীরা। সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মদের খুচরো বিক্রেতাদের কাছ থেকে এই অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রভাবশালী কয়েক জন ব্যক্তি রয়েছেন বলেও দাবি ব্যবসায়ীদের। পুরো ঘটনার তদন্তের দাবিতে আবগারি দফতরের দ্বারস্থ হয়েছে তাঁদের সংগঠন।

মদ ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘সোসাইটি ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেন লিকার লাইসেন্সিজ’ আবগারি দফতরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, তৃণমূল সরকারের চালু করা ‘ডিস্ট্রিবিউটর-ডিপো’ ব্যবস্থায় ডিস্ট্রিবিউটরদের নিজস্ব খরচে খুচরো বিক্রেতাদের গুদামে মদ পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিয়ম ভেঙে পরিবহণ ও ডেলিভারি বাবদ অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

সংগঠনের দাবি, খুচরো ব্যবসায়ীদের বিয়ার সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতি বোতল বা ক্যানের জন্য ১০ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত পরিবহণ খরচ দিতে বাধ্য করা হত। বিদেশি ও দেশি মদের ক্ষেত্রেও লোডিং-আনলোডিং ফির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের আরও দাবি, এই অর্থ নেওয়ার কোনও রসিদ বা সরকারি নথি দেওয়া হত না।

সংগঠনের সচিব বিজনকুমার পাত্র পিটিআই-কে জানিয়েছেন, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিয়ার, বিদেশি ও দেশি মদ সরবরাহের ক্ষেত্রে এইভাবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকারি রাজস্ব দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তিকেও অর্থ দিতে বাধ্য করা হত ব্যবসায়ীদের।

তবে অভিযোগকারীরা এই দাবির সমর্থনে এখনও কোনও লিখিত প্রমাণ বা নথি জমা দিতে পারেননি। তাঁদের বক্তব্য, তৃণমূল সরকারের আমলে বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার অভিযোগ জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্ত, অননুমোদিত পরিবহণ মাশুল আদায় বন্ধ এবং মদ সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে ২০২১ সালে রাজ্যে ‘ডিস্ট্রিবিউটর-ডিপো মডেল’ চালু করা হয়েছিল। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ স্টেট বেভারেজেস কর্পোরেশন লিমিটেডের পূর্ববর্তী সরবরাহ ব্যবস্থা বদলে দেওয়া হয়। সরকার তখন দাবি করেছিল, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে মদ ব্যবসায় আরও স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


Share