Rahul Gandhi

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে কমিশনের ‘অন্তর্বর্তী’ নির্দেশ, জোড়াফুলে নিষেধাজ্ঞা! মমতার পাশে দাঁড়িয়ে রাহুলের তীব্র আক্রমণ

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কমিশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, শিবসেনা এবং এনসিপির ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া দেখা গিয়েছিল, তৃণমূলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গাঁধী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:০২

আসন্ন উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নতুন মোড় নিল। দলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করায় ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের সংরক্ষিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশন আপাতত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অন্তর্বর্তী নির্দেশে দুই গোষ্ঠীকেই বিকল্প নাম এবং নির্বাচনী প্রতীকের প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কমিশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, শিবসেনা এবং এনসিপির ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া দেখা গিয়েছিল, তৃণমূলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। রাহুলের দাবি, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশে প্রথমে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বিভাজনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, দলের নির্বাচনী প্রতীক তার পর কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

সমাজমাধ্যমে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, কোনও একটি রাজনৈতিক দল যদি ‘চুরি’ হয়ে যেতে পারে, তা হলে দেশের কোটি কোটি মানুষের ভোট নিয়েও একই ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়। তাঁর বক্তব্য, ‘ভোট চুরি’, ‘সরকার চুরি’র পর এ বার ‘দল চুরি’ও গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের প্রতীক হয়ে উঠছে। নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব মানুষের রায়কে সুরক্ষিত রাখা। অথচ কমিশন সেই জনরায়কে বদলে দেওয়ার শক্তির পাশে দাঁড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। গত ৪ মে-র পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি যাওয়ার পর কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতার দীর্ঘ বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলে তাঁর ‘ঘর ওয়াপসি’ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যদিও সেই বৈঠক বা পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের তরফে এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা সামনে আসেনি। তবে তৃণমূলের এই কঠিন সময়ে কংগ্রেস যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছে, দলের একাধিক বক্তব্যে সেই বার্তা মিলেছে।

রাহুলের সাম্প্রতিক পোস্টেও সেই অবস্থানই আরও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একার নয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান এমন দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং প্রতিটি ভোটারের এই লড়াইয়ে অংশীদারিত্ব রয়েছে।

এ দিকে, কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে আপাতত তৃণমূলের মূল নাম বা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না কোনও পক্ষই। কালীঘাট এবং ঋতব্রত—দুই গোষ্ঠীকেই শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে তিনটি করে দলের নাম এবং তিনটি করে মুক্ত প্রতীকের পছন্দ জানাতে বলা হয়েছে। সেই তালিকা থেকেই কমিশন প্রতিটি গোষ্ঠীর জন্য একটি করে নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করবে। তবে এই ব্যবস্থা আপাতত অন্তর্বর্তী। দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং দলীয় নাম ও প্রতীকের দাবির বিষয়ে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি।

আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। একই সময়ে অসমের নগাঁও লোকসভা আসনেও উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দলীয় নাম, সাংগঠনিক কর্তৃত্ব এবং জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে বিবাদ পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশনের দরজায়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের বক্তব্য, দাবি এবং জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখেছে কমিশন।

এখন নজর, জোড়াফুল প্রতীক ছাড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কোন নতুন নাম ও প্রতীক বেছে নেয় এবং ঋতব্রত শিবিরই বা কোন নাম ও প্রতীকে উপনির্বাচনে লড়াই করে।


Share