Chor Bagan Incident

চোরবাগান পদপিষ্ট কাণ্ডে ছ’সদস্যের সিট গঠন করল রাজ্য সরকার, তিন মাসের মধ্যে জমা দিতে হবে রিপোর্ট, নির্দেশিকা জারি করলেন মুখ্যসচিব

চোরবাগান পদপিষ্ট কাণ্ডে ১৯ জনের মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে ছ’সদস্যের সিট গঠন করল রাজ্য। তিন মাসের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৩৬

চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্টের পরিস্থিতি কী কারণে তৈরি হল, বিপর্যয় আসল কারণ কী তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে গঠিত ছ’সদস্যের এই দলকে আগামী তিন মাসের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ অক্টোবর, শনিবার কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপের কাছে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কীভাবে ভিড়ের চাপ তৈরি হল, ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখবে এই সিট।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী ছাড়াও দলে রয়েছেন রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা ও অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের প্রধান সচিব, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফের ডিজি জাভেদ শামিম, রাজ্য পুলিশের মনোনীত অতিরিক্ত ডিজি পদমর্যাদার আধিকারিক, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের মনোনীত যুগ্মসচিব পদমর্যাদার বা তার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি এবং কলকাতায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একজন প্রতিনিধি।

ইতিমধ্যেই ১৩টি সিসি ক‍্যামেরার ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তদন্তে সেই সিসি ফুটেজগুলি পরীক্ষা করে দেখবেন তাঁরা। পাশাপাশি মোবাইলে তোলা ভিডিয়ো, ফরেন্সিক রিপোর্ট, কল রেকর্ড, টাওয়ার ডাম্প রিপোর্ট, থানার নথি, কন্ট্রোল রুমের লগ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা হবে। ভিড়ের পরিমাণ, মণ্ডপের ধারণক্ষমতা, প্রবেশ ও নির্গমনপথ, ব্যারিকেড, গেট পরিচালনা, আবহাওয়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, গুজব এবং কাঠামোগত ত্রুটির মতো সম্ভাব্য কারণগুলিও খতিয়ে দেখা হবে।

পুজো উদ্যোক্তা, পুলিশ, নিরাপত্তাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, দমকল, অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা, হাসপাতাল ও পুরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি এবং পারস্পরিক সমন্বয়ও তদন্তের আওতায় থাকবে। পুজোর অনুমতি, ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা মানা হয়েছিল কি না, তা-ও পরীক্ষা করা হবে।

গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইনানুগ পদক্ষেপের সুপারিশ করতে পারবে সিট। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে উত্তর কলকাতার ঘিঞ্জি এলাকায় বড় পুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণ, জরুরি উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিয়েও সুপারিশ করবে দলটি। নির্দেশিকা জারির দিন থেকেই সিট গঠনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।


Share