Durga Immersion

ক্রেন নয়, ট্রলিতে হবে প্রতিমা নিরঞ্জন! বিসর্জনের কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র যাচাই করতে পুলিশকে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

বিজয়া দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনে ক্রেনের বদলে ট্রলি ব্যবহারের নির্দেশ শুভেন্দু অধিকারীর। পরিচয়পত্র যাচাই, NDRF মোতায়েন এবং টাকির ইছামতীতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে প্রশাসন।

রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০২:২২

বিজয়া দশমীর বিষাদমাখা আবহে দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সকালে কলকাতার বাজেকদমতলা ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে বিসর্জনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন তিনি। প্রতিমা নিরঞ্জনে ক্রেনের পরিবর্তে ট্রলি ব্যবহার, বিসর্জনের কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র যাচাই এবং নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে টাকির ইছামতীতে নিরঞ্জন ঘিরেও বিশেষ সতর্কতার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

বাজেকদমলা ঘাটে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, এ বার প্রতিমা নিরঞ্জনের ক্ষেত্রে ক্রেনের পরিবর্তে ট্রলি ব্যবহার করা হবে। তাঁর বক্তব্য, ক্রেনের সাহায্যে প্রতিমা গঙ্গায় নামানোর সময় মূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। পাশাপাশি, এ ভাবে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের দৃশ্য নিয়েও বিভিন্ন মহলে আপত্তি ছিল। সেই কারণেই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ঘাটে বড় ট্রলির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। উৎসব পরে আসে। তাই ঐতিহ্য রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিসর্জনের কাজে যাঁরা প্রতিমা নিয়ে যাবেন, তাঁদের নাম ও পরিচয়পত্র যাচাই করার জন্য কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, হিন্দু ধর্মে যাঁরা বিশ্বাসী, তাঁরাই প্রতিমা স্পর্শ করবেন। তবে এই সিদ্ধান্তের মধ্যে কোনও সাম্প্রদায়িকতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

বিসর্জন ঘিরে দুর্ঘটনা এড়াতে এ বার রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা NDRF-কেও যুক্ত করা হয়েছে। ঘাটে চলবে কড়া নজরদারি। নিরঞ্জন শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই প্রতিমার কাঠামো ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে ঘাট পরিষ্কারের কাজ শুরু হবে।

অন্য দিকে, টাকির ইছামতীতে বিসর্জন ঘিরেও বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিমা নিরঞ্জনের পাশাপাশি প্রায় ২০০টি নৌকায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে প্রশাসনের। তাঁদের নৌকায় ওঠা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হলেও আবেগের কারণে তা পুরোপুরি আটকানো সম্ভব হয়নি বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

নিরাপত্তার স্বার্থে লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি BSF-এর সাহায্য নেওয়া হচ্ছে এবং NDRF-এর একটি দলও সেখানে থাকবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক জন ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে পাঠানো হয়েছে। বারাসত রেঞ্জের ডিআইজিকেও দায়িত্বে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

সব মিলিয়ে, দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ঐতিহ্য বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।


Share