Oil Politics

ভারতের তেল শোধন ক্ষমতায় মুগ্ধ আমেরিকা? জামনগরে রিলায়েন্সের শিল্পাঞ্চল পরিদর্শনে মার্কো রুবিও, ভেনিজুয়েলার তেল আমদানিতে ভারতের উপরেই নজর ওয়াশিংটনের

এই সফরে বিশ্বের বৃহত্তম একক স্থানের তেল শোধনাগার কমপ্লেক্স, রিলায়েন্সের নিউ এনার্জি গিগাফ্যাক্টরি, নির্মীয়মাণ ডেটা সেন্টার এবং বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণ কেন্দ্র ‘বনতারা’ ঘুরে দেখেন আমেরিকার প্রতিনিধিদল।

আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১০

ভারত-আমেরিকার জ্বালানি সহযোগিতা আরও মজবুত করার লক্ষ্যে গুজরাতের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের বিশাল শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন করলেন আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। বুধবার তাঁকে স্বাগত জানান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মুকেশ আম্বানি এবং সংস্থার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অনন্ত আম্বানি। সঙ্গে ছিলেন ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এবং রুবিওর স্ত্রী জিনেট ডুসদেবেস রুবিও। এই সফরে বিশ্বের বৃহত্তম একক স্থানের তেল শোধনাগার কমপ্লেক্স, রিলায়েন্সের নিউ এনার্জি গিগাফ্যাক্টরি, নির্মীয়মাণ ডেটা সেন্টার এবং বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণ কেন্দ্র ‘বনতারা’ ঘুরে দেখেন আমেরিকার প্রতিনিধিদল।

জামনগরের অত্যাধুনিক তেল শোধনাগারের কাজের পরিসর এবং সেখানে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তি সম্পর্কে অতিথিদের বিস্তারিত জানানো হয়। পাশাপাশি, রিলায়েন্সের নতুন ক্লিন এনার্জি উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে ধাপে ধাপে উৎপাদন শুরুর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। নির্মীয়মাণ ডেটা সেন্টারগুলি সম্পর্কেও আলোচনা হয়। সংস্থার বক্তব্য, জ্বালানি ও ডিজিটাল পরিকাঠামো কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত, তা নিয়ে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। বিশেষ করে, ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের গুরুত্ব এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

রুবিওর এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর ঠিক আগের দিনই ভারতকে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের ক্ষেত্রে ‘সুপারপাওয়ার’ বলে উল্লেখ করেছিলেন আমেরিকার বিদেশসচিব। পাশাপাশি, ভেনিজুয়েলা থেকে আরও বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানি করে তা পরিশোধনের জন্য ভারতকে উৎসাহিত করেছিলেন তিনি। আমেরিকার লক্ষ্য, ভারতে জ্বালানি রফতানি বাড়ানোর পাশাপাশি পশ্চিম গোলার্ধের দেশগুলি থেকে আসা অপরিশোধিত তেল পরিশোধনে ভারতের ভূমিকা আরও জোরদার করা। সেই প্রেক্ষাপটে জামনগরের শোধনাগার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের তরফে জানানো হয়েছে, মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানি আমেরিকার সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছেন। প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং উন্নত উৎপাদন ক্ষেত্রে ভারত ও আমেরিকার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সহযোগিতার নতুন পথ খোঁজার বিষয়টি উঠে এসেছে আলোচনায়। দুই পক্ষেরই লাভ হতে পারে, এমন ব্যবসায়িক ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে বলে সংস্থার বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

রিলায়েন্সের জামনগর শোধনাগারে প্রতিদিন প্রায় ১৪ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের ক্ষমতা রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের সুবিধা থাকায়, ভেনিজুয়েলা থেকে ভারতের তেল আমদানি বাড়ানোর আমেরিকার উদ্যোগে এই শোধনাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। অন্য দিকে, ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জানিয়েছেন, ভারতের জ্বালানি আমদানিতে আমেরিকা থেকে আসা এলপিজির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। সব মিলিয়ে, জামনগর সফরের মাধ্যমে ভারতের জ্বালানি পরিশোধন ক্ষমতা, পরিচ্ছন্ন শক্তি এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোয় আমেরিকার আগ্রহ আরও স্পষ্ট হল।


Share