Asansol Chit Fund Fraud

৩৫০ কোটি টাকা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি আসানসোলে, পালাতে গিয়ে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা শাকিল আহমেদের ছেলে তহসিন, উদ্ধার লক্ষাধিক টাকার সোনা

আসানসোলের পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, “একজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।” তহসিন আহমেদ এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

আসানসোলে চিটফান্ডকান্ডে গ্রেফতার তৃণমূল নেতার ছেলে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল
  • শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ০২:১০

অবশেষে পুলিশের জালে আসানসোলের তৃণমূল নেতা শাকিল আহমেদের ছেলে তহসিন আহমেদ। পুলিশ সূত্রের খবর, তহসিন পালানোর চেষ্টা করছিল। ঝাড়খন্ডের দিকে যাচ্ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ফাঁদ পেতে তহসিনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে প্রায় ৩১ লক্ষ টাকার সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, চিটফান্ডকান্ডে অভিযুক্ত তহসিন আহমেদকে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে চন্দ্রচূড় মোড়ের কাছ থেকে পাকড়াও করেছে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ। পুলিশ সুত্রের খবর, বাসে চেপে পালানোর ছক কষেছিল অভিযুক্ত তহসিন আহমেদ। সম্ভবত, ঝাড়খন্ডের কোথাও গা ঢাকা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পাতা হয় ফাঁদ। আর তাতেই ধরা পড়ে তৃণমূল নেতার ছেলে।

প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে পশ্চিম বর্ধমানের তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন সহ-সভাপতি শাকিল আহমেদের ছেলে তহসিন আহমেদের বিরুদ্ধে। তৃণমূলের দাবি, শাকিলের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগাযোগ নেই। জেলা সংখ‍্যলঘু সেলের সভাপতি মেহেফুজুল হাসান বলেন, “তহসিনের বাবা শাকিল আহমেদ তৃণমূলের সংখ‍্যলঘু সেলের সহ-সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে শাকিল দলের কেউ না। শাকিলের সঙ্গে দলের কোনও যোগাযোগ নেই।”

জানা গিয়েছে, বাম আমলে শাকিল ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতা ছিলেন। কাউন্সিলরও হয়েছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরে, ঘাসফুল শিবিরের যোগদান করেন। এর পরে শাকিল আহমেদের ছেলে তহসিন আহমেদের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসতেই শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। বাবা-সহ দুই পুত্রের ফোন বন্ধ ছিল। বাকি দু’জনকেও খুঁজছে পুলিশ।

আসানসোলের রেলপাড়ার জাহাঙ্গির মহল্লার একাধিক বাসিন্দা তহসিনের বিরুদ্ধে তাদের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন। বিনিয়োগকারী অভিযোগ, বেশি রিটার্নের লোভ দেখিয়ে প্রতারণা করেছেন তৃণমূল নেতার ছেলে তহসিন আহমেদ। মাসে মাসে মোটা অঙ্কের সুদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সে। দাবি, প্রথমে দিকে বিনিয়োগকারী লাভবান হলেও, পরে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা বন্ধ হয়ে যায়। এর পর টাকা ফেরতের দাবিতে গত বুধবার তহসিনের আহমেদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন বিনিয়োগকারী একাংশ।

অবসরপ্রাপ্ত এক বিএসএফ অফিসার বলেন, ‘‘প্রথমে তিন লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। ভাল রিটার্ন পেয়ে আরও টাকা বিনিয়োগ করি। সব মিলিয়ে প্রায় ৪১ লক্ষ টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখন আর কোনও টাকা পাচ্ছি না। অনেকেই আমার কথা শুনে এই প্রকল্পে টাকা দিয়েছিলেন। এখন সকলেরই টাকা আটকে গিয়েছে। আমাদের ধারণা, প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি হয়েছে।” ওই বিএসএফ অফিসারের দাবি, এই চক্রে মোট সাত জন জড়িত। প্রায় আড়াই হাজার বিনিয়োগকারী প্রতারিত হয়েছেন।

একই ভাবে, মহিশীলা কলোনির বটতলা এলাকার বাসিন্দা মৌটুসি দত্ত বলেন, ‘‘আমি বেকার। সোনার গয়না বন্ধক রেখে ২০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। কয়েক মাস সুদ পেয়েছিলাম। তার পর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এখন টাকা চাইতে গেলে ধাক্কাধাক্কি করা হচ্ছে। আমি আসানসোল উত্তর থানায় অভিযোগ দায়ের করি।’’

আসানসোলের পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, “একজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।” তহসিন আহমেদ এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি এবং কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা। 


Share