Weather Update

বঙ্গোপসাগরে ফের নিম্নচাপের ভ্রুকুটি! মাসের শেষে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, সতর্কতা জারি ওড়িশা উপকূলে

অনুকূল পরিস্থিতি থাকলে মাসের শেষে তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে ইঙ্গিত কয়েকটি আন্তর্জাতিক আবহাওয়া মডেলের। অন্যদিকে, দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে সক্রিয় নিম্নচাপের জেরে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি অব্যাহত।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১০:১৫

দুর্গাপুজো কাটল মোটের উপর মনোরম আবহাওয়াতেই। পুজোর দিনগুলিতে বৃষ্টি নিয়ে বড়সড় কোনও দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি রাজ্যবাসীকে। তবে পুজো মিটতেই কি বদলাতে চলেছে আবহাওয়ার মেজাজ? অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ফের বঙ্গোপসাগরে ঘনাচ্ছে দুর্যোগের মেঘ।  বঙ্গোপসাগরে নতুন করে ঘনীভূত হচ্ছে ঘূর্ণাবর্ত। তা থেকে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে এই নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপ, এমনকি ঘূর্ণিঝড়েও পরিণত হতে পারে বলে কয়েকটি আন্তর্জাতিক আবহাওয়া মডেলে ইঙ্গিত মিলেছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর। মাসের শেষ দিকে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া সূত্রে জানা গিয়েছে, থাইল্যান্ড উপসাগর ও সংলগ্ন মায়ানমার অঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তটি গত ২১ অক্টোবর রাতে উত্তর আন্দামান সাগরে প্রবেশ করেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত এই ঘূর্ণাবর্ত পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। ২৩ অক্টোবরের মধ্যেই দক্ষিণ-পূর্ব ও সংলগ্ন মধ্য-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে এটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে অনুমান। অন্য কয়েকটি আন্তর্জাতিক আবহাওয়া মডেল অবশ্য ২৪ বা ২৫ অক্টোবর আন্দামান অঞ্চলে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।

নিম্নচাপ তৈরি হলে পরবর্তী কয়েক দিনে তার শক্তি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবরের মধ্যে এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে ২৬ অক্টোবরের পর আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার আশঙ্কাও রয়েছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক মডেলের হিসাব অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে এই আবহাওয়া ব্যবস্থা। আমেরিকার ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া)-র ট্রপিক্যাল হ্যাজার্ডস আউটলুক এবং ভারত মহাসাগরে সক্রিয় ম্যাডেন-জুলিয়ান অসিলেশন (এমজেও)-এর প্রভাবে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস নিশ্চিত করেনি ভারতের আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)। সম্ভাব্য নিম্নচাপের গতিপথ এবং তার শক্তি কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় ও বায়ুমণ্ডলের উপরিস্তরের বায়ুপ্রবাহের উপর। ফলে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়া বা কোথায় তার প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সম্ভাব্য আবহাওয়া পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ওড়িশা উপকূলে ইতিমধ্যেই বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। বিশেষ করে ২৬ অক্টোবর বালেশ্বর, ভদ্রক, যাজপুর, কেন্দ্রাপাড়া, কটক, জগৎসিংহপুর, পুরী, খুরদা, নয়াগড়, গঞ্জাম ও গজপতি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এদিকে, বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে তামিলনাড়ু উপকূলের কাছাকাছি আরও একটি নিম্নচাপ সক্রিয় রয়েছে। তার প্রভাবে দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে বৃষ্টির দাপট অব্যাহত। গত ২৪ ঘণ্টায় তামিলনাড়ু ও কেরালার বিভিন্ন এলাকায় ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। রায়লসীমা অঞ্চলেও ভারী বৃষ্টিপাতের খবর মিলেছে। প্রবল বৃষ্টিতে জল জমার কারণে চেন্নাই-সহ সংলগ্ন একাধিক জেলার স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কারাইকাল ও কেরালার বিভিন্ন অংশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা বহাল রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকায় লাল বা কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে। পাশাপাশি লাক্ষাদ্বীপ, দক্ষিণ কর্ণাটক এবং উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশেও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট উপকূলের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একদিকে দক্ষিণ ভারতে সক্রিয় নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টি, অন্যদিকে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা—অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তাই নজর থাকছে সামুদ্রিক আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির দিকে।


Share