Voter List

পিলভিটে ভোটার তালিকায় বড়সড় কারচুপির অভিযোগ, ১০ হাজার ৪৭০টি আবেদনে অনিয়মের হদিস! দুই ইআরও-র বিরুদ্ধে তদন্ত, বরখাস্ত কম্পিউটার অ্যাসিস্ট্যান্ট

পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট কম্পিউটার অ্যাসিস্ট্যান্টকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দুই ইআরও-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তরপ্রদেশ
  • শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৪৬

উত্তরপ্রদেশের পিলভিট বিধানসভা কেন্দ্রের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে তৎপর নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের পরিচয় ও তথ্য পরিবর্তন এবং ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে দুই ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং এক কম্পিউটার অ্যাসিস্ট্যান্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওই তিন জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট কম্পিউটার অ্যাসিস্ট্যান্টকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দুই ইআরও-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিলভিটের জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের জমা দেওয়া তদন্ত রিপোর্টে একাধিক গুরুতর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ মে থেকে ২৯ অগস্ট পর্যন্ত ভোটার তালিকায় তথ্য সংশোধনের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম-৮-এর মাধ্যমে মোট ১৩ হাজার ৭৭৯টি আবেদন সিস্টেমে নথিভুক্ত করেছিলেন সংশ্লিষ্ট কম্পিউটার অ্যাসিস্ট্যান্ট। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক আবেদনের সমর্থনে প্রয়োজনীয় কোনও কাগজপত্র বা লিখিত নথি জেলা নির্বাচনী দফতরে পাওয়া যায়নি।

তদন্তে জানা গিয়েছে, নথিহীন ওই আবেদনগুলির মধ্যে ১০ হাজার ৪৭০টি অনুমোদন করা হয়েছিল। অনুমোদিত আবেদনগুলিতে গুরুতর কারচুপির প্রমাণ মিলেছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ভুয়ো ফর্ম-৮ বাতিল করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এসআইআর-এর পর গত ১০ এপ্রিল প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় একাধিক ভোটার আইডি নম্বরের সঙ্গে কাল্পনিক ব্যক্তির নাম জুড়ে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। গত ১৯ অক্টোবর সমাজবাদী পার্টি পিলভিট-সহ একাধিক জায়গায় ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিনওয়ারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। স্থানীয় আইনজীবী ফৈজান আলি খানও অভিযোগ করেন, তাঁর এবং তাঁর ভাইয়ের ইআইপিজি নম্বরের সঙ্গে নাম বদলে কাল্পনিক ব্যক্তির নাম যুক্ত করা হয়েছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ে।

অন্য দিকে, কংগ্রেস নেতা কুমুদ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৫ জনের একটি দল পিলভিটের প্রায় ৩.৪৮ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই করে ১৩ হাজার ১৫০টি সম্ভাব্য কারচুপির ঘটনা চিহ্নিত করেছে বলে দাবি। অভিযোগ, ছুটির দিন এবং গভীর রাতে বেছে বেছে মুসলিম ভোটারদের নাম ও ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছিল। এর ফলে ভোটের দিন পরিচয় সংক্রান্ত অসঙ্গতির অজুহাতে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও এই অভিযোগগুলির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

সামনেই উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। ২০২২ সালের পিলভিট বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সাত হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। ফলে ভোটার তালিকার এই অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। সমাজবাদী পার্টি জানিয়েছে, শুধু পিলভিট নয়, রাজ্যের প্রায় ১০০টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখা হবে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আরাধনা মিশ্রও ৭৫টি জেলা কমিটিকে ভোটার তালিকা পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ দিকে, বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র রাকেশ ত্রিপাঠি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও আধিকারিক বা ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে এবার নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


Share