Food Scheme

দুয়ারে পুষ্টির কিট, ডাল-তেল-সয়াবিন পাবেন কারা? বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

জঙ্গলমহলের ৭০ হাজার পরিবারকে চাল, ডাল, তেল, সয়াবিন ও রাগির মতো পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে। ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে নতুন কর্মসূচির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

ঝাড়গ্রামে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:০৩

জঙ্গলমহলের আদিবাসী পরিবারগুলির পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন কর্মসূচি চালু করল রাজ্য সরকার। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে চাল, ডাল, তেল, সয়াবিন এবং রাগির মতো পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী। এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রায় ৭০ হাজার পরিবার। পুজোর পর ঝাড়গ্রামের কালাঝরিয়ায় গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

কারা পাবেন এই পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী?

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, অপুষ্টিতে ভোগা বিশেষ উপজাতি গোষ্ঠীর পরিবারগুলিকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। পরিবারের হাতে পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রীর বিশেষ কিট তুলে দেওয়া হবে। চাল, ডাল ও তেলের পাশাপাশি থাকবে সয়াবিন, রাগি-সহ বিভিন্ন খাবার। প্রধানমন্ত্রী পরিচালিত অন্ন সুরক্ষা যোজনার সুবিধার পাশাপাশি এই বিশেষ পুষ্টিকর কিটও পাবেন উপভোক্তারা।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাজেটেই এই কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবার প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল। খাদ্যসামগ্রী বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাঁরা বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেবেন, তাঁদের কাছে থাকবে বায়োমেট্রিক ডিভাইস। বায়োমেট্রিক স্ক্যানের মাধ্যমে উপভোক্তাদের পরিচয় যাচাই করে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে, যাতে কোনও পরিবার বঞ্চিত না হয়।

উপকৃত হবেন ৭০ হাজার পরিবার

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, এই প্রকল্পে ঝাড়গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার পরিবার এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রায় ৪৫ হাজার পরিবার উপকৃত হবে। অর্থাৎ, দুই জেলা মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার পরিবারের কাছে পৌঁছবে এই পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী।

শিক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়নেও বরাদ্দ

এদিন আদিবাসী পড়ুয়াদের জন্য বৃত্তির কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তফসিলি জনজাতির প্রায় ২ লক্ষ পড়ুয়াকে ৮০০ টাকা করে বৃত্তি দেওয়ার কর্মসূচিতে মোট ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঝাড়গ্রাম জেলার ৮৮ হাজার ৩৬ জন পড়ুয়া বৃত্তি পেয়েছে বলে জানান তিনি।

পাশাপাশি, ঝাড়গ্রামের উন্নয়নের জন্য ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় রাস্তা, কালভার্ট, সৌরশক্তিচালিত আলো এবং কমিউনিটি হল তৈরিতে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। জঙ্গলমহলের উন্নয়ন ও জনজাতি পরিবারগুলির জীবনযাত্রার মান উন্নত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী।


Share