Petrol & Diesel

কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা পরেই পেট্রল পাম্প থেকে ফের আগের নিয়মে জ্বালানি কিনতে পারবে শিল্প-বাণিজ্যিক সংস্থা, তুলে নেওয়া হল বাল্ক কেনার নিষেধাজ্ঞা

তবে সেই নির্দেশিকা এ বার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ফলে বুধবার থেকে আগের নিয়মেই জ্বালানি কিনতে পারবে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ১১:০৮

শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির পেট্রল-ডিজেল কেনার উপর জারি হওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, ১ জুলাই অর্থাৎ বুধবার থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। চলতি মাসের শুরুতে কেন্দ্রের জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি আর পেট্রল পাম্প থেকে একসঙ্গে বড় পরিমাণে পেট্রল বা ডিজ়েল কিনতে পারবে না। তবে সেই নির্দেশিকা এ বার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ফলে বুধবার থেকে আগের নিয়মেই জ্বালানি কিনতে পারবে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি।

যাঁরা একবারে বিপুল পরিমাণ ডিজেল কেনেন, তাঁদের জন্য বাল্ক মূল্যে জ্বালানির দাম সাধারণ খুচরো গ্রাহকদের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এই মূল্যবৈষম্যের সুযোগ নিয়ে অনেক বাল্ক ক্রেতা তুলনামূলক কম দামে সাধারণ পেট্রল পাম্প থেকেই বেশি পরিমাণ ডিজেল কিনছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পেট্রল ও ডিজেলের বাল্ক কেনাবেচায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। তবে সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

সোমবার জারি হওয়া সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পেট্রল ও ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির উপর আরোপিত সমস্ত বিধিনিষেধ আগামী ১ জুলাই থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় উদ্বেগও বাড়ে। ভারতের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। তাই হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার পর থেকেই দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় সরকার বারবার আশ্বস্ত করেছে, পেট্রল, ডিজেল বা রান্নার গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। সরকারের দাবি, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানির মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা মউ স্বাক্ষরের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি। যদিও হরমুজ প্রণালী এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, তবু অধিকাংশ পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল আর উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হচ্ছে না। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দেশীয় বাজারে জ্বালানি কেনাবেচার উপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

গত ১১ জুন কেন্দ্রীয় সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেট্রল পাম্প থেকে মোটর স্পিরিট (পেট্রল) ও হাই-স্পিড ডিজেলের বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। সরকারের দাবি, খুচরো ও বাল্ক দামের ব্যবধানের সুযোগ নিয়ে বহু শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহক বাল্ক সরবরাহের বদলে সরাসরি পেট্রল পাম্প থেকে জ্বালানি কিনছেন। এই প্রবণতা রুখতেই পেট্রল পাম্প থেকে একসঙ্গে বেশি পরিমাণ পেট্রল ও ডিজেল কেনার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।


Share