Donald Trump

একই দিনে ট্রাম্পের জন্য স্বস্তি ও ধাক্কা! সুপ্রিম কোর্টে এক রায়ে ক্ষমতা বাড়ল, অন্য রায়ে কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ বহাল

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ফেডারেল সংস্থাগুলির প্রধানদের পদ থেকে অপসারণের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের থাকবে। যদিও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই ক্ষমতার উপর ব্যতিক্রমও বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ০৭:৪০

একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ভিন্নধর্মী রায় দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। একটি রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হলেও, অন্য একটি রায়ে আইনি ধাক্কার মুখে পড়তে হল তাঁকে। ফলে একই দিনে ট্রাম্পের জন্য স্বস্তি ও অস্বস্তির দুই বিপরীত ছবি সামনে এল।

যৌন নির্যাতন ও মানহানি সংক্রান্ত দুটি মামলায় আইনি ধাক্কা খেয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাঁর ক্ষমতার পরিধি বাড়িয়েছে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ফেডারেল সংস্থাগুলির প্রধানদের পদ থেকে অপসারণের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের থাকবে। যদিও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই ক্ষমতার উপর ব্যতিক্রমও বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট।

সোমবার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনিক ক্ষমতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। মামলার সূত্রপাত, নীতিগত মতপার্থক্যের জেরে ডেমোক্র্যাট সদস্য রেবেকা কেলি স্লটারকে ফেডারেল ট্রেড কমিশনের কমিশনার পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন স্লটার। মামলার মূল প্রশ্ন ছিল রাষ্ট্রপতি কি এভাবে স্বাধীন ফেডারেল সংস্থার প্রধান বা কমিশনারকে পদ থেকে অপসারণ করতে পারেন?

আমেরিকার আইন অনুযায়ী, অযোগ্যতা বা অসদাচরণের মতো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কোনও ফেডারেল সংস্থার কমিশনার বা প্রধানকে পদ থেকে সরানো যায় না। সেই আইনি সুরক্ষার জেরেই রেবেকাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। মামলার শুনানিতে ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে ট্রাম্পের পক্ষেই রায় দেয় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কমিশনারদের অপসারণে আইনি বিধিনিষেধ প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতাকে অযৌক্তিকভাবে সীমিত করে, যা আমেরিকার সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ছ'জন বিচারপতির সংখ্যাগরিষ্ঠ বেঞ্চের মত, রাজনৈতিক বিবেচনায় ফেডারেল সংস্থার প্রধানকে দেওয়া আইনি সুরক্ষা যুক্তিসঙ্গত নয়। তাঁদের পর্যবেক্ষণ, সংবিধান অনুযায়ী আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ওই পদাধিকারীকে অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে। তবে তিন বিচারপতি এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই রায়ের ফলে দেশের স্বাধীন সরকারি কমিশনগুলির উপর প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে।

তবে রায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রমের কথাও উল্লেখ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না।

অন্য দিকে, একই দিনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখিকা ক্যারলের দায়ের করা দুটি মামলায় বড় ধাক্কা খান। ২০১৯ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রথম মানহানির মামলা করেন ক্যারল। পরে ২০২২ সালে শারীরিক নির্যাতন ও মানহানির অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করেন তিনি। প্রথমে ২০২২ সালের মামলার শুনানি হয়, যেখানে আদালত ট্রাম্পকে ৫০ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর ২০১৯ সালের মামলাতেও জুরি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রায় দেয় এবং ৮৩ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ফলে সুদ-সহ সব মিলিয়ে ক্যারলকে প্রায় এক কোটি ৩৩ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ট্রাম্পকে।

ক্যারলের আইনজীবী রবার্ট কাপলান জানান, নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাম্প তাঁর মক্কেলকে যৌন নিপীড়ন এবং মানহানি করেছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের একাধিক আবেদন বার বার খারিজ হয়ে গিয়েছে। রবার্টের কথায়, ‘‘নিজের কৃতকর্মের ফল এড়াতে ট্রাম্পের সব চেষ্টার অবসান ঘটল।’’

২০২২ সালে দায়ের করা মামলায় ক্যারল অভিযোগ করেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউ ইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে তাঁকে যৌন নিগ্রহ করেছিলেন ট্রাম্প। পরে প্রকাশ্যে এই অভিযোগ আনার পর ট্রাম্প তা অস্বীকার করে বলেন, নিজের বইয়ের বিক্রি বাড়াতেই এমন দাবি করছেন ক্যারল। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে মানহানিকর বলে অভিযোগ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।

বারবার নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দেওয়ানি মামলার শুনানি হয়েছিল জেলা বিচারক লুইস কাপলানের এজলাসে। ট্রাম্পের অভিযোগ, বিচারক একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এমন কিছু সাক্ষীকে জুরির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন, যাঁদের বক্তব্য তাঁর বিরুদ্ধে গিয়েছে। এ ছাড়াও মামলায় উঠে আসে ২০০৫ সালের একটি বিতর্কিত অডিয়ো রেকর্ডিংয়ের প্রসঙ্গ। অভিযোগ, সেই রেকর্ডিংয়ে ট্রাম্পকে মহিলাদের স্পর্শ করা ও চুম্বন করার বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে শোনা যায়। তবে ওই অডিয়োর সত্যতা নিয়েও আদালতে প্রশ্ন তুলেছিলেন ট্রাম্প।


Share