Middle East Conflict

দোহায় ফের আমেরিকা-ইরান শান্তি বৈঠকের ঘোষণা ট্রাম্পের, কিন্তু কাটেনি অনিশ্চয়তা, সংঘর্ষবিরতির মাঝেই ফের উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া

ভারতীয় সময় অনুযায়ী সোমবার বিকেলে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘‘একটা বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছিল ইরান। সেই বৈঠক মঙ্গলবার (৩০ জুন) দোহায় অনুষ্ঠিত হবে।’’

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ১১:৪৩

প্রথম দফার শান্তি আলোচনা হয়েছিল সুইৎজারল্যান্ডের বারগেনস্টকে। তার কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের প্রস্তুতি। সোমবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা মঙ্গলবার কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে কারা থাকবেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। উল্লেখ্য, এর আগে ইরান এই ধরনের বৈঠকের সম্ভাবনাই নাকচ করেছিল।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী সোমবার বিকেলে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘‘একটা বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছিল ইরান। সেই বৈঠক মঙ্গলবার (৩০ জুন) দোহায় অনুষ্ঠিত হবে।’’ তবে বৈঠকটি আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ, ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগেই ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহে কাতারে আমেরিকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনও বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। পরে সেই সামরিক অভিযানে যোগ দেয় ইজরায়েলও। জবাবে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। পশ্চিম এশিয়াজুড়ে থাকা একাধিক আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরানের সেনাবাহিনী। ফলে পুরো পশ্চিম এশিয়ায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাতের জেরে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীও কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায়। টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলার পর শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয় আমেরিকা ও ইরান। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনায় বসে দুই দেশ।

গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকে (মউ) সইয়ের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, গত চার দিনে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম এশিয়া। গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালির কাছে ওমান উপকূলে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ওই হামলার পিছনে ছিল ইরান। তবে তেহরান সেই অভিযোগ খারিজ করে উল্টে আমেরিকার বাহিনীকেই দায়ী করে।

এর পরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরানও পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে হামলা চালায়। কুয়েত ও বাহরিনে বোমাবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। শনিবার পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও গোলাগুলি চলতে থাকে।

এর পাশাপাশি কূটনৈতিক স্তরেও শুরু হয়েছে তীব্র বাক্‌যুদ্ধ। একে অপরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ তুলছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উভয় দেশই সীমিত হামলার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিক্রিয়া যাচাই করার চেষ্টা করছে। তাঁদের ধারণা, আপাতত কোনও পক্ষই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়। বরং সীমিত উত্তেজনা বজায় রেখে কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করাই দুই দেশের লক্ষ্য। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, আপাতত উভয় পক্ষ আবারও সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছে।


Share