Middle East Conflict

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহেও স্বস্তির বার্তা! দেশে ৬৯ দিনের তেল-এলএনজি, ৪৫ দিনের এলপিজি মজুতের দাবি কেন্দ্রের

পাশাপাশি দেশে দৈনিক প্রায় ৫৪ হাজার টন এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘এলপিজি সরবরাহে কোনও সমস্যা নেই।"

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদ্বীপ সিংহ পুরী
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ০৮:২৪

পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের আবহে দেশে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা উড়িয়ে ফের আশ্বস্ত করলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী। তাঁর দাবি, ভারতে অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং এলপিজি-র পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে কোনও ধরনের সমস্যা নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬৯ দিনের অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি এবং প্রায় ৪৫ দিনের এলপিজি মজুত রয়েছে। পাশাপাশি দেশে দৈনিক প্রায় ৫৪ হাজার টন এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘এলপিজি সরবরাহে কোনও সমস্যা নেই।"

পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির জেরে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে পেট্রল, ডিজেল ও গ্যাস ব্যবহারে সংযমী হওয়ার বার্তা দেন। তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরে জল্পনা শুরু হয়, তবে কি দেশে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে? সেই ‘বিভ্রান্তি’ দূর করতেই কেন্দ্রের তরফে বারবার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

হরদীপ জানান, প্রধানমন্ত্রীর বার্তাকে আতঙ্কের কারণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া আর্থিক চাপ মোকাবিলায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সেই আহ্বানকে দেখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, জ্বালানি সাশ্রয় করলে বিদেশি মুদ্রার উপর চাপও কমবে।

সোমবার পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রকের যৌথ সাংবাদিক বৈঠকেও কেন্দ্র জানায়, ভারতে পর্যাপ্ত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, পেট্রল, ডিজেল ও এলপিজি মজুত রয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের এক যুগ্মসচিব জানান, ভারতের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানি করা হলেও সম্ভাব্য সঙ্কট এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীও সম্প্রতি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘‘বর্তমান সময়ে পেট্রল, ডিজ়েল, গ্যাস এ সব জিনিস অত্যন্ত সংযমী হয়ে ব্যবহার করতে হবে। যে সব জ্বালানি পণ্য আমরা বিদেশ থেকে আমদানি করি, সেগুলি যেটুকু প্রয়োজন ততটুকুই ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে। এতে বিদেশি মুদ্রারও সাশ্রয় হবে এবং যুদ্ধের সঙ্কটের বিরূপ প্রভাবকেও কমানো যাবে।”

এই আবহেই দেশের জ্বালানি ভান্ডারে কতটা মজুত রয়েছে, তা স্পষ্ট করে দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করল কেন্দ্রীয় সরকার।


Share