Neet-UGC Exmination

গোটা দেশের বাতিল হল ২০২৬ এর ইউজিসি নিট পরীক্ষা! তদন্তে সিবিআই, পরবর্তী পরীক্ষার দিকে তাকিয়ে ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী

৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া নিট-ইউজি পরীক্ষার কিছু দিন পর থেকেই রাজস্থানে প্রশ্নফাঁস নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার কমপক্ষে এক মাস আগে কিছু ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র, যেখানে ছিল ৪১০টি প্রশ্ন।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ০২:২৫

নিট-ইউজি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগ আগেই উঠেছিল। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর শেষমেশ পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। ৩ মে সারা দেশে হওয়া ডাক্তারি প্রবেশিকায় প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। কিন্তু পরীক্ষা হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই অভিযোগ ওঠে যে প্রশ্নপত্র আগেই বাইরে চলে গিয়েছিল। অভিযোগের জেরে চলতি বছরের মেডিক্যালের প্রবেশিকা পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানাল এনটিএ। সিবিআইকে গোটা ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।

৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া নিট-ইউজি পরীক্ষার কিছু দিন পর থেকেই রাজস্থানে প্রশ্নফাঁস নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার কমপক্ষে এক মাস আগে কিছু ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র, যেখানে ছিল ৪১০টি প্রশ্ন। পরীক্ষার পর মিলিয়ে দেখা যায়, রসায়নের অন্তত ১২০টি প্রশ্ন আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলেছে। শুধু প্রশ্ন নয়, মিলেছে উত্তর বিকল্পও। অন্য এক সূত্র আরও দাবি করেছে, ২৮১টি সম্ভাব্য প্রশ্নের মধ্যে ১৩৫টি প্রশ্ন সম্পূর্ণ মিলে যায় আসল প্রশ্নের সঙ্গে। ফলে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়েও বড় প্রশ্ন ওঠে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়ায়। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ তোলেন, এটা ২০২৪ সালের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি। সেই সময়ও বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রশ্নপত্র কোটি টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। প্রশ্নফাঁস নিয়ে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও কড়া সুরে সমালোচনা করেন। বিরোধীদের অভিযোগের পরই দ্রুত পদক্ষেপ করে এনটিএ জানিয়ে দেয়, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ৩ মে-র পরীক্ষা বাতিল করা হল এবং নতুন তারিখ জানানো হবে পরে।

পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে এনটিএ জানিয়েছে, নতুন পরীক্ষার জন্য কোনও রকম আবেদন বা অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না। বরং আগেরবার জমা করা পরীক্ষার ফি ফেরত দেওয়া হবে। তবে নতুন পরীক্ষার দিনক্ষণ এখনও জানানো হয়নি। পরীক্ষার্থীদের এনটিএ-র ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখতে বলা হয়েছে। নতুন করে অ্যাডমিট কার্ডও প্রকাশ করা হবে।

পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে ২৩ লক্ষ পড়ুয়ার মধ্যে। মাসের পর মাস পড়াশোনা ও প্রস্তুতির পর আবার নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হবে, এই পরিস্থিতিতে কে নেবে এই অপচয় হওয়া সময় ও পরিশ্রমের দায়? স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে এই প্রশ্ন।


Share