Chandra Nath Rath Murder Case

চন্দ্রনাথ হত‍্যাকান্ডের তদন্ত করবে সিবিআই, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হতে তদন্তেভার তুলে দিল রাজ‍্য পুলিশ

গত ৬ মে, বুধবার রাতে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গাড়িতেই প্রাণ হারান চন্দ্রনাথ। সেই ঘটনার পরে একটি নিশান মাইক্রা গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়। যার নম্বর প্লেট ভুয়ো ছিল। পরে দু’টি মোটরবাইক বাজেয়াপ্ত করা হয়।

চন্দ্রনাথ রথ নিহত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ১০:৫৪

শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনার তদন্ত করবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, সিবিআই। রাজ‍্য পুলিশ সিবিআইয়ের নাম সুপারিশ করেছিল। মঙ্গলবার সিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করছে। বিবৃতি জারি করে তা জানিয়েছে সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, তাঁরা এই মামলার তদন্তের জন‍্য বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করবে। কলকাতা জোনের যুগ্ম নির্দেশকের অধীনে এই দল কাজ করবে।

সিবিআইয়ের কলকাতা জোনের এক সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা জোন থেকে এই তদন্ত পরিচালনা করা হবে। তদন্তের স্বার্থে যখন যে রকম ভাবে প্রয়োজন হবে, সেই রকম ভাবেই আধিকারিক নিয়োগ করা হবে। মঙ্গলবারই রাজ্য পুলিশ সিবিআইয়ে ঘটনার কেস ডায়েরি সিবিআইয়ের হাতে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে বলে জানা গিয়েছে। একটি দল মধ‍্যমগ্রাম থানায় যেতে পারেন বলেও জানা যাচ্ছে। তাঁরা সেখান থেকে ঘটনাস্থলেও যেতে পারেন বলে খবর।

চন্দ্রনাথ রথ হত‍্যাকান্ডে ঘটনায় আগেই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছিল রাজ‍্য পুলিশ। সেই দলে রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ এবং গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকেরা ছিলেন। তদন্তে নেমে বিহার এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের মধ্যে একজন শুটার রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ধৃতদের নাম রাজ সিংহ, ময়ঙ্করাজ মিশ্র এবং ভিকি মৌর্য। তাঁদের গতকাল বারাসত আদালতে হাজির করানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৩ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ মে, বুধবার রাতে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গাড়িতেই প্রাণ হারান চন্দ্রনাথ। সেই ঘটনার পরে একটি নিশান মাইক্রা গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়। যার নম্বর প্লেট ভুয়ো ছিল। পরে দু’টি মোটরবাইক বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেটারও নম্বর প্লেট ভুয়ো ছিল। একটি মোটরবাইক কয়েক মাস আগে চুরি হয়ে গিয়েছিল। পিছনে থাকা একটি লাল গাড়ির এখনও পাওয়া যায়নি। ঘটনার নেপথ্যে সাত থেকে আটজন দুষ্কৃতী এই হত‍্যাকান্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।

যে গাড়িটি খুনে ব্যবহৃত হয়েছিল, তা ঝাড়খণ্ড থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে অনুমান করছে পুলিশ। আসার পথে রাজচন্দ্রপুর টোলে ফাস্টট‍্যাগের মাধ‍্যমে টোল দেওয়া হয়েছিল। ইউপিআইয়ের লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখেই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সিটের এক সদস্যের কথায়, প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে, ডিজিট্যাল ট্র্যাকিং এবং অন্যান্য সূত্র ধরে বিহার এবং উত্তরপ্রদেশে অভিযান চালানো হয়েছিল। এ বার সেই ঘটনার তদন্ত করবে সিবিআই।


Share