Donald Trump

ট্রাম্পকে হত্যার ছক কষছে ইরান! মোসাদের গোপন সতর্কবার্তায় বদলানো হল প্রেসিডেন্টের বিমান, 'হিট লিস্টে' নিজের নাম প্রথমে বলে বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্পের

এর কারণ বর্ণনা করার সময়ে তিনি বলেন, “আপনারা সম্ভবত একটি বিপজ্জনক বিমানে রয়েছেন। ওরা (ইরানিরা) খুব বাজে লোক… আমাকে সবসময়ই হুমকির মুখে থাকতে হয়। ওদের তালিকায় (হিট লিস্টে) একেবারে প্রথমেই রয়েছি আমি। আমার যদি কিছু হয়, তবে আপনাদেরও একই অবস্থা হবে।”

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ ১১:২২

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ছক কষছে ইরান, এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা এই সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ইতিমধ্যেই আমেরিকার সিক্রেট সার্ভিসকে সতর্ক করেছে। দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে তেহরান। আর সে কথাই বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটনকে।

ঘটনাচক্রে, বৃহস্পতিবার তুরস্কে নেটো শীর্ষবৈঠক শেষে আমেরিকায় ফিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের তথাকথিত ‘হিট লিস্টে’ তাঁর নামই রয়েছে প্রথমে। তাঁর আশঙ্কা, মাঝ-আকাশে তাঁর বিমানে হামলার চেষ্টা হতে পারে। তুরস্ক সফরে কাতারের উপহার দেওয়া নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ ব্যবহার করলেও দেশে ফেরার সময় তিনি অন্য একটি বিমানে যাত্রা করেন। ট্রাম্পের সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে থাকা সাংবাদিকদের তিনি নিজেদের আসনের পাশের জানলার পর্দা বন্ধ রাখতে বলেন। এর কারণ বর্ণনা করার সময়ে তিনি বলেন, “আপনারা সম্ভবত একটি বিপজ্জনক বিমানে রয়েছেন। ওরা (ইরানিরা) খুব বাজে লোক… আমাকে সবসময়ই হুমকির মুখে থাকতে হয়। ওদের তালিকায় (হিট লিস্টে) একেবারে প্রথমেই রয়েছি আমি। আমার যদি কিছু হয়, তবে আপনাদেরও একই অবস্থা হবে।”

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইজরায়েলি দূতাবাস ইরানের সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আমেরিকার গোয়েন্দাদের নির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছিল। সেই সতর্কবার্তার জেরেই আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত বিমানের পরিবর্তে একটি পুরনো বিমান ব্যবহার করে ব্রিটেন হয়ে আমেরিকায় ফেরেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে আমেরিকার বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সুলেমানি। সেই ঘটনার পরই তেহরান হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভেনিয়ায় নির্বাচনী প্রচারসভায় ট্রাম্পের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। মঞ্চ থেকে প্রায় ১৩০ গজ দূরের একটি উঁচু ছাদ থেকে টমাস ক্রুকস নামে এক বন্দুকধারী একাধিক গুলি চালায়। একটি গুলি ট্রাম্পের কান ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়। যদিও অতীতে ইরানের তরফে ট্রাম্পকে ঘিরে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে আমেরিকান গোয়েন্দারা সতর্ক করেছিল, সরকারি তদন্তে টমাস ক্রুকসের হামলার সঙ্গে তেহরানের কোনও প্রত্যক্ষ যোগসূত্রের প্রমাণ মেলেনি। এ দিকে, গত জুনে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত একটি ইউএফসি কেজ-ফাইটিং অনুষ্ঠানে ড্রোন ও স্নাইপার হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওহাইওতে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা এবং সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়।

কিন্তু ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমেরিকার দাবি, এটি ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক পরিকল্পনারই অংশ। বুধবার রাতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা করার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন সেন্টকম ইরানের প্রায় ২০০টি স্থানে হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এর পাল্টা জবাবে ইরান পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র কুয়েত, বাহরিন, কাতার এবং জর্ডনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত ১৭ জুন ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতির সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এ দিকে, তেহরানের অভিযোগ, আমেরিকার যুদ্ধবিমান ইরানের বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে। হামলা-পাল্টা হামলার আবহেই বৃহস্পতিবার রাতে (ভারতীয় সময়) নিজের জন্মস্থান মাশহাদে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে সমাহিত করা হয় দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে। শিয়া মুসলিমদের অষ্টম ইমাম ইমাম রেজার পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।


Share