Supreme Court

দেশের প্রধান বিচারপতিকে অকথ‍্য ভাষায় গালিগালাজ! কাগজ ছুড়ে চিৎকার, এজলাসে এমন আচরণ করেও রেহাই

এর পরেই বিচারপতিদের দিকে চিৎকার করে কাগজ ছুড়ে দেন। মামমলাকারীর এমন কীর্তিতে শেরগোল পড়ে যায়। লঙ্কাকান্ড পরেও ওই মামলারারীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ ০৭:২৬

এজলাসে শুনানি চলাকালীন আচমকা মেজাজ হারালেন মামলাকারী। নিজেই বিচারপতিদের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়লেন। দেশের প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে অকথ‍্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর পরেই বিচারপতিদের দিকে চিৎকার করে কাগজ ছুড়ে দেন। মামমলাকারীর এমন কীর্তিতে শেরগোল পড়ে যায়। লঙ্কাকান্ড পরেও ওই মামলারারীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথন এবং বিচারপতি অলোক আরাধের এজলাসে ঘটনাটি ঘটেছে। সকাল ১১টা নাগাদ বিচারের তালিকায় থাকা একটি মামলা তাঁদের এজলাসে ওঠে। মামলাকারী ছিলেন প্রবল প্রতাপ নামে এক ব‍্যক্তি। তিনি নিজেই মামলাটি লড়তে এসেছিলেন। এলাহাবাদ হাই কোর্টের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রবল শীর্ষ আদালতের দারস্থ হয়েছিলেন।

অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই সুর চড়াতে শুরু করেন। বিচারপতিদের ‘বিচার ব‍্যবস্থার কর্মচারী’ বলে মন্তব্য করেন। এর পরেই বিচারপতিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের নির্দেশ দিচ্ছি, সাইবার অপরাধের সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগে লখনউয়ের এসএসপির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার কথা বলুন।”

এ হেন মন্তব্যের জন্য কার্যত হতবাক হয়ে বিচারপতি বলেন, “আপনি আমাকে নির্দেশ দিচ্ছেন? আমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন?” বিচারপতির উত্তর মামলাকারী দেননি। এর পরেই আচমকাই বিচারপতিদের উদ্দেশ্যে মামলার কাগজ ছুড়ে দেন। মূহুর্তেই নিরাপত্তারক্ষীরা এসে তাঁকে এজলাস থেকে বের করে নিয়ে যায়। তাঁকে বেশ কিছু ক্ষণ আটক করে রাখা হয়। পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিচারপতি বিশ্বনাথন বলেন, ‘‘আমরা তাঁর (প্রবল) বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে চাই না। মামলার নথি আমরা পর্যালোচনা করছি। তবে এলাহাবাদ আদালতের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনও কারণ খুঁজে পাইনি।’’ প্রবলের এ-হেন কীর্তিতে বিচলিত হয়ে পড়েন বিচারপতিরা। বিচারপতি বিশ্বনাথন বলেন, ‘‘এই ঘটনায় আমরা হতাশ। আমরা তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল।’’


Share