Metro Railway

ভিক্টোরিয়ার তলা দিয়ে ছুটল ‘দুর্গা’, পার্পল লাইনের সুড়ঙ্গ খননের কাজ শেষ, জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো চালুর পথে আরও এক ধাপ এগোল কলকাতা

অত্যাধুনিক টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) ‘দুর্গা’ মাত্র এক বছরের মধ্যেই খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের সুড়ঙ্গ খননের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

ভিক্টোরিয়ার তলা দিয়ে ছুটল ‘দুর্গা’
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ ০৩:১৭

কলকাতা মেট্রোর মুকুটে যোগ হল নতুন সাফল্য। জোকা-এসপ্ল্যানেড (পার্পল লাইন) মেট্রো প্রকল্পের আন্ডারগ্রাউন্ড সুড়ঙ্গ নির্মাণে এল বড় অগ্রগতি। অত্যাধুনিক টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) ‘দুর্গা’ মাত্র এক বছরের মধ্যেই খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের সুড়ঙ্গ খননের কাজ সফল ভাবে সম্পন্ন করেছে। এর ফলে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কোল ঘেঁষে পার্পল লাইনের প্রথম আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হল।

কলকাতা মেট্রোরেল সূত্রে জানা গিয়েছে, খিদিরপুর থেকে পার্কস্ট্রিট পর্যন্ত ২.৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যুগ্ম সুড়ঙ্গ নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে চেন্নাই থেকে আনা অত্যাধুনিক দুটি টানেল বোরিং মেশিন ‘দুর্গা’ ও ‘দিব্যা’। প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ মিটার দীর্ঘ এবং ৬০০ থেকে ৬৫০ টন ওজনের এই নতুন প্রজন্মের টিবিএমগুলি উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন, দ্রুতগতির এবং নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। প্রতি মিনিটে প্রায় ৮০ মিলিমিটার গতিতে মাটি কেটে এগিয়ে যেতে সক্ষম এই যন্ত্রদুটি। বর্তমানে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৭ মিটার নিচে খিদিরপুর এলাকায় সুড়ঙ্গ খননের কাজ চলছে। এর মধ্যে ‘দুর্গা’ পার্কস্ট্রিট তথা এসপ্ল্যানেডমুখী সুড়ঙ্গ নির্মাণে ব্যস্ত, আর ‘দিব্যা’ জোকামুখী সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

মেট্রো কর্তৃপক্ষের আশা, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই ‘দুর্গা’-র অংশের সুড়ঙ্গ খননের কাজ সম্পূর্ণ হবে। অন্য দিকে, জোকামুখী লাইনে কাজ করা ‘দিব্যা’-র ব্রেকথ্রু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ২০২৭ সালের মার্চ মাসে।

কলকাতার ভূগর্ভস্থ মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনাতেই এই নতুন দুটি মেশিন তৈরি করা হয়েছে। কলকাতা মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী প্রেম সাগর গুপ্ত, নেপালের কনসাল জেনারেল, কলকাতা পুরসভার কমিশনার, হাওড়া পুলিশ কমিশনার, মেট্রোরেল, রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড, নির্মাণকারী সংস্থা এলঅ্যান্ডটি-র ঊর্ধ্বতন আধিকারিক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে ভিক্টোরিয়া মেট্রো স্টেশনে টানেল বোরিং মেশিন 'দুর্গা' সফলভাবে তার খননকার্য সম্পন্ন করেছে। মেট্রো রেলের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মাটির নিচে কাজ করার সময় যাতে কোনওরকম ধস বা বিপত্তি না ঘটে, তার জন্য এই টিবিএমগুলিতে যুক্ত করা হয়েছে ইনফ্লেটেবল সিল, প্রেসার ট্রান্সডিউসার, টেল স্কিন গ্রিস (টিএসজি) লাইনের মত উচ্চমানের আধুনিক সুরক্ষা প্রযুক্তি। ব্যাকআপ হিসেবে রাখা হয়েছে অতিরিক্ত টিএসজি পাম্পও।

মাটির ওপরে রয়েছে ফোর্ট উইলিয়াম, পিটিএস স্টেশন। কোনওরকম ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই এইচডিবিএম এসে পৌঁছেছে ভিক্টোরিয়ার নীচে। মেট্রোরেলের জিএম প্রেমসাগর গুপ্ত বলেন, "এটা একটা মাইলস্টোন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের এটা বড় সাফল্য। কোনও ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই দারুণ কাজ হয়েছে। 'দিব্যা'ও ডেডলাইনের মধ্যে কাজ করবে বলেই আশা করছি।" ভূগর্ভে যে কর্মীরা কাজ করছেন, তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে বলেই জানান মেট্রোরেলের জেনারেল ম্যানেজার।

দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি না মেলায় চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের কাজ কার্যত থমকে ছিল। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সেই দীর্ঘস্থায়ী জট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। নতুন প্রশাসনের ছাড়পত্র মিলতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজে নেমেছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। মাত্র দু'দফায় রেললাইন জোড়ার কাজ রেকর্ড সময়ে সম্পন্ন হয়েছে, যার জন্য মেট্রো ইঞ্জিনিয়ারদের সময় লেগেছে ১২০ ঘণ্টারও কম।

এ দিকে, আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে টানেল বোরিং মেশিন ‘দুর্গা’ ও ‘দিব্যা’ও এখন দ্রুত গতিতে সুড়ঙ্গ খননের কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছে। ফলে জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো করিডর চালুর স্বপ্ন বাস্তবের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে, আর সেই লক্ষ্য পূরণ এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।


Share